জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমেদ কায়কাউস বলেছেন, ‘আমরা উনত্রিশটি ক্যাডার সার্ভিসের সবাই আজ অঙ্গীকার করছি—জাতির পিতার অসম্মান আমরা হতে দেবো না। “জয় বাংলা” আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। আমরা কেন সবাই বক্তৃতার শেষে “জয় বাংলা” বলবো না? আশা করি, আজ থেকেই শুরু করবো এবং প্রয়োজনে সরকারের অনুমতি নেবো।’
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরবিরোধী এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সকাল থেকে বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত বিসিএসের সব ক্যাডার, সব ব্যাচ, বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন সক্রিয় অংশ নেয়।
সমাবেশে আহমেদ কায়কাউস আরও বলেন, “‘জয় বাংলা” শব্দটিকে দলীয় বানাবেন না। ভারত যদি “জয় হিন্দ” বলতে পারে আমরাও “জয় বাংলা” কেন বলতে পারবো না? আমরা “জয় বাংলা” বলতে চাই।’
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবিধানিকভাবে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’
পুলিশের মহাপরদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। বঙ্গবন্ধুর ওপর হামলা মানে রাষ্ট্রের ওপর হামলা, সংবিধানের ওপর হামলা। আমরা জাতির জনক, দেশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের জনগণের ওপর কোনও আঘাত আসতে দেবো না।’
বিসিএস কর অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফজলে আহাদ কায়সার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না, আর বাংলাদেশ না হলে এত ক্যাডার সার্ভিস হতো না। ভাস্কর্য যারা ভেঙেছে তারা দেশবিরোধী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কেউ বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করবে, তার ভাস্কর্য ভাঙচুর করবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কেননা জাতির পিতা ও বাংলাদেশ অভিন্ন। তাই জাতির পিতার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।’








