‘ভারতের সঙ্গে সমস্যার সমাধান হবে দর কষাকষির মাধ্যমে’

শেখ শাহরিয়ার জামান
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:০৫আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩৩

মাসুদ বিন মোমেন

ভারতের সঙ্গে প্রথাগত সমস্যা, যেমন—সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন, অশুল্ক বাণিজ্য বাধাসহ অন্যান্য বিষয় সমাধানের চেষ্টার পাশাপাশি নতুন নতুন ক্ষেত্র, যেমন—প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি, কৃষিসহ অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান। তবে তিনি বলেন, ‘সমস্যার সমাধান দর-কষাকষির মাধ্যমেই হবে, কেউ এমনি দেবে না।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘প্রথাগত সমস্যা একদিনে সমাধান হবে না, কিন্তু এর জন্য অন্য নতুন সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা থেমে থাকবে না। নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা আমরা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চাই। কিন্তু, শুধু এ বিষয় নিয়েই যদি আমরা কথা বলি, তবে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে না। একই বিষয় পানির জন্যও প্রযোজ্য। পানি নিয়ে আমরা আলোচনা করি, কিন্তু এটি গোটা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে ভারত আরও বেশি আগ্রহী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যার সমাধান দরকষাকষির মাধ্যমেই হবে, কেউ এমনি দেবে না। আমাদের যে অর্থনৈতিক শক্তি, সেটা ও সামাজিক একতাকে দর-কষাকষির শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।’

সব সময় সব সমস্যার সমাধান হবে সেরকম নয়, কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

গত ৫০ বছরে উন্নতির ফলে প্রাথমিক পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনও সমস্যা নেই জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব  বলেন, ‘এখন আমরা চাল ও ডাল নিয়ে সমস্যায় নেই। আমাদের এখন দরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ অন্যান্য বিষয়, যা আমাদের উৎপাদন ও  উৎপাদনশীলতা বাড়াবে।’

ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, পাট, চামড়া, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পে স্থানীয় মূল্য সংযোজন কীভাবে করা যায়, সেটি নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে বলে তিনি জানান।

নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল চুক্তির বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের জন্য ভালো হবে। কারণ, এর ফলে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি পাবে।’

এছাড়া ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিদেশীয় রোড নেটওয়ার্কে বাংলাদেশ যোগ দিতে চায়। কারণ, এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রবেশ করা সহজ হবে এবং বাংলাদেশ যেকোনও উদ্যোগে সঙ্গী হতে চায় বলে তিনি জানান।

কানেক্টিভিটির উপকারিতা সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল লাইন পুনঃস্থাপনের ফলে কী উপকার হয়েছে। এই রেল লিংক বৃহৎ কানেক্টিভিটির একটি অংশ। শুধু একটি উপাদান বিবেচনা না করে গোটা নেটওয়ার্ক থেকে বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চল কী পাচ্ছে, সেটি বিবেচনা করতে হবে।’

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম