মুজিববর্ষের ওয়েবসাইট উদ্বোধন

নেতৃত্বের অভাবে বিরোধী দল জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:১৮আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:৩৭

গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে বিরোধী দলগুলো জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্ব সেভাবে নেই বলে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস তারা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল অবশ্যই দরকার। এতে কোনও সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। রবিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘মুজিববর্ষের কার্যক্রম’, ‘মুজিববর্ষ ওয়েবসাইট ২০২০-২১’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অডিও ভাষণ’-এর ডিজিটাল সংকলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণতন্ত্রে সংসদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য পার্লামেন্টের ভূমিকা রয়েছে। পার্লামেন্ট এমন একটা জায়গা, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আসেন, তারা জনগণের কথা বলার সুযোগ পান।’

গণতন্ত্র বজায় রাখতে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা অন্তত এটুকু দাবি করতে পারি যে বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতা আমার আছে, তখন বিরোধী দলে থেকে কী কী সমস্যা মোকাবিলা করেছি, সেটা আমরা জানি। এ কারণে আমরা কিন্তু আর সেই সমস্যাগুলো সৃষ্টি করি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকুক এবং জনগণের জন্য আমরা যেন কাজ করার সুযোগ পাই।’

দেশ গঠনে জাতির পিতার অবদানের কথা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাত্র ৫৪ বছরের একটি ছোট জীবন। এরমধ্যেও তিনি যে অসাধারণ কাজ করে গেছেন, তা কল্পনাও করা যায় না। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে আমি যেটা দেখি, এমন কোনও কাজ নেই যেটা উনি না করে গেছেন। একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যা যা করণীয়, সবকিছুই তো তিনি করে দিয়ে গেছেন। রাষ্ট্রের ভিত্তিটাই তো করে দিয়ে গেছেন।’

সরকার নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১টা বছর সময় নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এখন যেটুকু সময় আমরা পাচ্ছি, আমরা দিচ্ছি, যা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। সত্যকে কেউ একেবারে মুছে ফেলতে পারে না, এটাই আজ প্রমাণিত সত্য।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে জাতির পিতা তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন এবং তিনি যখন এই দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, তখন দলকে সুসংগঠিত করার জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার দীর্ঘদিনের একটা লালিত স্বপ্ন ছিল, একদিন এই বাঙালিদের একটি জাতি হিসেবে স্বাতন্ত্র্য দেবেন এবং স্বতন্ত্র রাষ্ট্র করে দেবেন। তিনি তা করেও ছিলেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি আনয়নের মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়েই তার সরকার ও দল কাজ করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ২০২০ সাল উদযাপন উপলক্ষে আমরা যেসব কর্মসূচি নিয়েছি, সে সবই জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ এবং সংসদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজন উল্লেখযোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মুজিববর্ষের ওয়েবসাইট চালু করা হলো। তাছাড়া ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলো নিয়ে এখানে সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তার সরকার আরও কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নয়ন হলে সেসব কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে করা সম্ভব হবে। আর তাই মুজিববর্ষের কর্মসূচি তার সরকার ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের বিজয় দিবস পর্যন্ত অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সুষ্ঠুভাবে সংসদ পরিচালনার জন্য স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে এই সংসদকে পরিচালনা করছেন। যে কারণে আমাদের সংসদের ভাবমূর্তি আজ আন্তর্জাতিকভাবেও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বারবার নির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চাই, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক এবং জাতির জন্য আমরা কাজ করার সুযোগ পাই।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, অপরাজিতা হক, সুবর্ণা মুস্তাফা এবং সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ওয়েবসাইট প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক কাজী নাবিল আহমেদ বক্তব্য রাখেন এবং ওয়েবসাইটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয় এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করে। গত বছরের মার্চে এই ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করার কথা থাকলেও করোনা সংক্রমণের কারণে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। যার কারণে অনেকটা সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবিবার এর উদ্বোধন করা হলো।

এর আগে ২০১৯ সালের শেষ দিকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কাজী নাবিল আহমেদ এমপিকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, ওয়াসিকা আয়েশা খান, অপরাজিত হক ও সুবর্ণা মুস্তাফা।

/ইএইচএস/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম