মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের ফলে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য পরিবর্তন কতটুকু হবে সেটি নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই পট পরিবর্তন বড় একটি গেম প্ল্যান। রোহিঙ্গা নির্যাতনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রশ্নবিদ্ধ গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর থেকে মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর জন্য সু চির সঙ্গে সামরিক বাহিনী একটি আঁতাতকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার ফলাফল কী হবে সেটি ভবিষ্যৎই বলবে। কিন্তু এর ফলে রাজনৈতিক মানচিত্রের পরিবর্তন সামনে চলে এসেছে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান: রোহিঙ্গা ইস্যুর ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, সু চির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে এবং যারা সামরিক বাহিনীতে আছেন তারা সবাই তার পরিচিত। বর্তমান ক্ষমতার পালাবদল বড় ধরনের কোনও গেম প্ল্যান কিনা সেটি আমাদের চিন্তা করতে হবে।
মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব ছিল এবং থাকবে জানিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন আমাদের সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু আসলে তারা কতটা আন্তরিক সেটির দিকে সতর্ক নজর রাখা উচিত।
শহীদুল হক বলেন, ২০১৭ সালের পরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল এই প্রথম মিয়ানমারের ওপর গত সপ্তাহে সর্বসম্মত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে ‘মিয়ানমারের সংহতির’ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলে, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি মিয়ানমারে। কিন্তু এরপরও জাতিসংঘ মিয়ানমারের সংহতির বিষয়টি কেন তুলছে সেটি পরিষ্কার নয়।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিবের মতে, রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের জেনারেল ও রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে বিবেচনা করতে হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক হোসেন মোহাম্মাদ শাখাওয়াত বলেন, কয়েক মাস আগে মার্কিন এক সিনেটর রাখাইনকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে মানচিত্রগত কোনও পরিবর্তন হয় কিনা সেটির বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের আর্মি এগুলো বন্ধ করার জন্য কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে, তারা জানে কী ঘটছে এবং তাদের কী করতে হবে।
আরাকান আর্মি দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন করলেও এই পট পরিবর্তনের পর তারা কোনও ধরনের বিবৃতি দেয়নি বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মাহবুবুল হক ও লাইলুফার ইয়াসমিন বক্তব্য রাখেন।









