১৯৭১ সালের মার্চের ৭ তারিখ রেসকোর্সের জনসভার পর থেকে রোজ প্রতিরোধ বাড়ছে। অসহযোগে যোগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও পরিধি বাড়ছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু রোজই কোনও না কোনও নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইত্তেফাক, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ বাংলাপিডিয়ার তথ্য বলছে, ১৯৭১ সালের এইদিনে দুই পাকিস্তানে দুই দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের ফর্মুলা দেন ভুট্টো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের সার্বিক স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলছে, চলবে জানিয়ে অসহযোগ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিরোধের ১৪তম দিনে এসে বাংলার অসহযোগে পশ্চিমা শিল্পপতিদের নাভিশ্বাস ওঠে। সামরিক সরকারের প্রতি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধুর চার দফা মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয় তাতে। হরতালের কারণে ফল চালান করতে না পারায় লাহোরে শত শত মণ ফল নষ্ট হয় বলে সংবাদে প্রচার করা হয়।
বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের পক্ষে তাজউদ্দীন আহমেদ সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৪ তারিখ ৩৫টি নির্দেশনা প্রকাশ করেন। পরদিন ১৫ মার্চ অধিকাংশ খবরের কাগজে এ নির্দেশাবলী ছাপা হয়। এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত বাংলাপিডিয়ায় এ বিষয়ে উল্লেখ করে যে, শেখ মুজিবুর রহমানের এই নির্দেশনার পর পূর্ব পাকিস্তানের ওপর থেকে কার্যত পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়।
জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদানের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর ৪ দফা পূর্বশর্ত মেনে নেওয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-শ্রমিক-পেশাজীবী সংগঠন এবং যুব মহিলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সভা-সমাবেশ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ন্যাপ নেতা খান আবদুল ওয়ালী খান আলোচনা বৈঠকে মিলিত হন।
বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে সংবাদপত্র প্রেস কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে এদিন সকালে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সমাবেশ শেষে মিছিলসহ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে তাঁর হাতে একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর বাসায় সেদিন একের পর এক মিছিল গিয়েছে তার নির্দেশের জন্য।
এদিকে করাচীতে নিশাত পার্কে পিপলস পার্টির উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় পিপিপি’র চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের দুই অংশের দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তার সঙ্গে সংলাপ শুরু করার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাতে এক বিবৃতিতে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে নতুন নির্দেশ ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু তার দীর্ঘ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে নির্মূল করা যাবে না।









