তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জীবনে কোনও কিছু জয় করার ক্ষেত্রে কখনও প্রতিবন্ধকতা নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তেমন শিশু-কিশোরকে ঠিকভাবে লালন করতে পারি,তার পরিচর্যা করতে পারি, সেও বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিতে পারবে। দেশের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য তারাও অনেক সম্মান বয়ে নিয়ে আসতে পারে, ইতিহাস সেটিই প্রমাণ করে।’
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বেসরকারি ব্যাংক আয়োজিত অটিস্টিক শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা জাতিসংঘ কর্তৃক ফাইনাল রিকমেন্ডেশন পেয়েছি। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার মিলিত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নলালিত আমাদের বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ।আমাদেরকে কেউ আর দরিদ্র বলে অবজ্ঞা করতে পারবে না। পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে শিরোনামও লিখতে পারবে না।’
ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এ. রুমী আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় মন্ত্রী এর আগে সচিবালয়ে আরেকটি অনুষ্ঠানে এর ইতিহাস তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে লিখেছিলাম। মন্ত্রিপরিষদ সেটি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে রাষ্ট্রপতি সেটি অনুমোদন দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হয়ে গেজেট হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয় তথ্য প্রদান বা সরকারের কাজগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা ছাড়াও সম্প্রচারের কাজটিও করে আসছে। এজন্য আমরা চাচ্ছিলাম, এই মন্ত্রণালয়ের নাম কাজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হোক।’ সেই কারণে আমরা নাম পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করার জন্য প্রস্তাব করি, জানান তথ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রণালয়ের নামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকার। তখন এই মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই মন্ত্রণালয়ের নাম দেওয়া হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে এই মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে তথ্য মন্ত্রণালয় হয়।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন যেহেতু সম্প্রচারের কাজটি দেখভাল করি, করা আমাদের দায়িত্ব। সেই কারণে কাজের সঙ্গে মিল রেখেই নাম পরিবর্তিত হয়েছে। এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানে এই মন্ত্রণালয়ের নাম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘এই মুজিববর্ষে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ পরিপূর্ণভাবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ফাইনাল রিকমেন্ডেশন দিয়েছে জাতিসংঘ। বড়ই তাজ্জবের বিষয়, জাতির জীবনে এতবড় একটা সফলতা এলো, কিন্তু বিএনপি এটি নিয়ে অভিনন্দন দিলো না। তারা সরকারকে অভিনন্দন দেওয়া তো দূরের কথা, এই জাতিকে অভিনন্দন দেওয়া, সেটি দিতেও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।’
যারা ব্যর্থ ছিল তারা সবসময় সবকিছুতেই ব্যর্থতা দেখার চেষ্টা করে বলে এসব মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এখন যেটি করার চেষ্টা করছে, সেটি হচ্ছে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারের অনেক দূর এগিয়েছি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আমাদের এ ব্যাপারে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমোদন লাগে। সুতরাং, এখানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও ব্যর্থতা নাই, একাগ্রতা আছে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন পেলে সেটি হবে। এটি বিএনপি বুঝেও না বুঝার ভান করে। অপ্রাসঙ্গিক হলেও এটিকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে। আসলে বিএনপি কোনও ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না, খড়কুটো ধরেই ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে।’









