বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে কানেক্টিভিটি ও বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে দুদেশের সরকার। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইবরাহিম মোহাম্মেদ সলিহ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ শহীদ বলেন, যদি দুদেশের মধ্যে ভালো কানেক্টিভিটি থাকে তবে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। মালদ্বীপে কোভিডের আগে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ লাখ ট্যুরিস্ট বেড়াতো আসতো। বাংলাদেশ শুধুমাত্র মালদ্বীপের লোকদের নয়, ওইসব টুরিস্টদের জন্য পণ্য পাঠাতে পারবে।
তিনি বলেন, আজকে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। আকাশপথের পাশাপাশি আমরা সমুদ্রপথেও যোগাযোগ বাড়াতে চাই।
আঞ্চলিক শান্তির বিষয়ে শহীদ বলেন, আমরা দুদেশ ভারত মহাসাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করবো। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ মহাসাগর যাতে করে বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন. বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে আকাশপথে বিমান বাংলাদেশ শীগগিরই ফ্লাইট চালু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মালের মধ্যে একটি শিপিং লাইন আমরা দ্রুত চালু করতে পারবো।
মোমেন বলেন, এবারের সফরে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে দু’দেশের মধ্যে ব্যাপক সহযোগিতার জন্য যৌথ কমিশন গঠন, দ্বিপাক্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন, মৎস্য বিষয়ক ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ সহযোগিতা ও ২০২২ থেকে সাল ২০২৫ পর্যন্ত সংস্কৃতি বিনিময় বিষয়ক কর্মসূচি।
তিনি বলেন, বৈঠকে উভয় নেতা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্ভাবনা উন্মোচনের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশ মালদ্বীপের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ক সমস্যা দূর করতে এক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনার জন্য উভয় দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়ে দুদেশের সরকার একমত হয়েছে। শুল্ক সহযোগিতা ও দ্বৈত কর পরিহার বিষয়ক প্রস্তাবিত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মালদ্বীপ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করে দুদেশের সুবিধাজনক সময়ে সেদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক নোটে বলা হয়েছে ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সভাপতি পদে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক পদে ২০২৩ সালের জন্য বাংলাদেশি প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেবে মালদ্বীপ। দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ সফরে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মেদ সলিহ। তার সফরসঙ্গী হিসেবে এসেছেন মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি ফাজনা আহমেদ, পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিব।









