১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ ২৪ ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়েছিল। কারণ, ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে পাঠানো আত্মসমর্পণের বার্তাটি একদিনের জন্য আটকে রেখেছিল মার্কিন কূটনৈতিক মাধ্যম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর কমান্ডার লেফটেনেন্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা অবসর গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি ১৯৭৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান। ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির ইত্তেফাক পত্রিকার শেষ পাতায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বর যখন টাঙ্গাইলে ছত্রীবাহিনী অবতরণ করে এবং মেঘনাপাড়ের ঢাকার দিকে এগোতে থাকে তখন নিয়াজি উপলব্ধি করেন যে তিনি অহেতুক যুদ্ধ করছেন। তিনি বুঝতে পারেন যে তার বাধাদানের বিন্দুমাত্র শক্তি নেই এবং আত্মরক্ষার্থে ব্যস্ত সেনাবাহিনী একটা বুহ্যের মধ্যে আটকা পড়েছে।
জেনারেল নিয়াজি সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে আলোচনা শুরুর জন্য ইয়াহিয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। দুদিন পরে অনুমতি লাভের পর ভারতীয় বাহিনীর প্রধানের উদ্দেশে যুদ্ধবিরতি বার্তা লেখেন। বার্তাটি ঢাকাস্থ মার্কিন কনস্যুলেটে প্রদান করে অনুরোধ জানানো হয় কূটনৈতিক মাধ্যমে যেন তা দিল্লিতে পৌঁছানো হয়।
অবশেষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মানেকশর কাছে তা পৌঁছানো হয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে বার্তাটি পাকিস্তানের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে চলে যায়। সেখানে মার্কিন মহলে তা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছে তা পৌঁছানো হয়।









