দেশে গত ৯ দিনে ছয় বার রেকর্ড ভেঙেছে করোনা। গত বছরের ২ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় একদিনে চার হাজার ১৯ জন। গত ২৯ মার্চ সেই রেকর্ড ভেঙে করোনা শনাক্ত দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ১৮১ জন। সেই রেকর্ড ভেঙে ফের ৩১ মার্চ শনাক্ত হয় পাঁচ হাজার ৩৮৫ জন। ১ এপ্রিল শনাক্তের রেকর্ড ভেঙে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৪৬৯ জন। ২ এপ্রিল আবারও রেকর্ড ভেঙে শনাক্ত দাঁড়ায় ছয় হাজার ৮৩০ জন। এরপর ৪ এপ্রিল সাত হাজার ছাড়িয়ে একদিনে শনাক্ত দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮৭ জন।
এরপর মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দেশের ইতিহাসে করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত এবং মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এদিন শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ২১৩ জন এবং মারা গেছেন ৬৬ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে উচ্চ সংক্রমিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনা পরীক্ষা না করলে এই সংক্রমণের উচ্চ হার কমানো মুশকিল হয়ে যাবে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২২ জানুয়ারি করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এয়ারপোর্টে যাত্রী স্ক্রিনিং শুরু হয়। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি উহান থেকে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়, যার মধ্যে কারোর মধ্যে করোনার সংক্রমণ দেখা যায়নি। এরপর ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিন জন ব্যক্তির মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে দুই জন পুরুষ এবং এক জন নারী ছিলেন। ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তি ৭০ বছর বয়স্ক ছিলেন এবং অন্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সে বছর মার্চের শেষ নাগাদ ৫১ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয় এবং মৃত্যু হয় পাঁচ জনের।
এরপর এ বছর পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৫২ জনের। মারা গেছেন ৯ হাজার ৩৮৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর গত ৩১ মার্চ জানায়, দেশে করোনার উচ্চ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ ৩১ জেলায়। উচ্চ সংক্রমণযুক্ত জেলাগুলো হলো মৌলভীবাজার, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, নরসিংদী, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, নড়াইল, নীলফামারী, গাজীপুর, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, যশোর, মাদারীপুর, নওগাঁ, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, নাটোর, টাঙ্গাইল ও কক্সবাজার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির দস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখন কতগুলো উচ্চ সংক্রমিত এলাকা আছে। ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ , বরিশাল এগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় পরীক্ষা করে আইসোলেশনে পাঠানো যদি না হয়, সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। যেসব জায়গা উচ্চ সংক্রমিত সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। যেখানে রোগী পাওয়া যাবে, সেখান থেকে তাকে আইসোলেট করতে হবে এবং ওই পরিবারকে কোয়ারেন্টিন করতে হবে। কোয়ারেন্টিনকালে সেই পরিবারকে সবরকম সাপোর্ট দিতে হবে। এই কাজ যদি আমরা না করি, তাহলে এটা সহজে কমবে না।
লকডাউনের ঘোষণায় মানুষের ঢাকা ছাড়ার হিড়িক পড়ায় সেটি সংক্রমণের হারকে আরও বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যাপক নজরুল বলেন, ঢাকা একটি উচ্চ সংক্রমিত এলাকা। এখান থেকে যারা বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন, তারা তো আর পরীক্ষা করে যাচ্ছেন না। এর মধ্যে অনেকেই করোনা পজেটিভ থাকতে পারে, আবার বাহকও হতে পারে। তারা এখন ঢাকার সংক্রমণ বাইরে ছড়াবে। আমরা এর ফল দেখতে পারবো এখন থেকে ১৪-১৫ দিন পর, অর্থাৎ ১৯-২০ তারিখের দিকে। গতবারও ঈদের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল বলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
আরও পড়ুন:









