একাত্তরের ৬ এপ্রিল প্রথম কূটনীতিকের পক্ষ ত্যাগ

‘পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে রক্ত, ওদের সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব’

শেখ শাহরিয়ার জামান
০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৭আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:২৪

একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধু বাংলাদেশে হয়নি। বিদেশের মাটিতেও হয়েছিল। তবে অন্যভাবে। একাত্তরে ১১৫ জন বাংলাদেশি কূটনীতিক পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। কিন্তু সবাইকে পথ দেখিয়েছিলেন ওই সময় দিল্লিতে কর্মরত কে এম শেহাবুদ্দিন ও আমজাদুল হক। ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল দিল্লিতে তাঁরা সপরিবারে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করেন।

ওই সময়কার ঘটনা নিয়ে ব্রাসেলসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহর সঙ্গে এক ভিডিও আলাপচারিতায় কেন তাঁরা পক্ষ ত্যাগ করেন সেটার বর্ণনা দেন শেহাবুদ্দিনের সহধর্মিনী খালেদা শাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চের পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার কথা শুনে বুঝতে পেরেছিলাম, এদের সঙ্গে কাজ করতে পারবো না। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম চাকরি ছেড়ে দেওয়ার এবং দেশের জন্য কিছু করার। আমাদের জন্য ভারত একটি বিদেশি রাষ্ট্র। সেখানে থাকতে গেলে কিছু আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন ছিল। আমরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক ও অন্যান্য যারা আমাদের সাহায্য করতে চেয়েছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি।’

‘ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাকিস্তান ডেস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কে রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওই সময় একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে রায়কে অনুরোধ করি আমাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কারণ আমরা পক্ষ ত্যাগ করতে চাই। যাতে বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে পারি। তিনি বললেন, এটি করতে সময় লাগবে। অবশেষে ৬ এপ্রিল তারা আমাদের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানায়।’

তবে তারা আমাদের ওই সময়ে বলেছিল তাদের অনেক কূটনীতিক পাকিস্তানে কাজ করেন। তারা শর্ত দিয়েছিলেন যে আমরা যেন এমন কিছু না করি যাতে ওদের সমস্যা হয়।

কীভাবে সাহস করলেন?

খালেদা বলেন, ‘ওই সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম যে আমরা কিছু করবোই। আমজাদুল হকও পক্ষ ত্যাগ করেন এবং তিনি আমাকে অনেকবার জিজ্ঞাসা করেছেন এই নিশ্চিন্ত জীবন ছাড়তে আমরা রাজি আছি কিনা। ওই সময়ে তিনি বলেছিলেন এই যুদ্ধ বছরের পর বছরের চলতে পারে। কিন্তু আমি বলেছিলাম, পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে রক্ত। তাদের সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব।’

শিশু ও স্যুটকেস

ওই সময় শেহাবুদ্দিন দম্পতির দুটি ছোট শিশুসন্তান ছিল। খালেদা বলেন, ‘বাচ্চা ও দুটি স্যুটকেস নিয়ে আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। বাড়িটা পাকিস্তান দূতাবাসের ভাড়া করা বাসা হওয়ায় আমরা অন্য এক নিরাপদ জায়গায় চলে যাই।’

‘কলকাতায় আমাদের নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁরা ২২ এপ্রিল সময় দেন। আমি বাচ্চাদের নিয়ে দিল্লিতে রয়ে যাই। আমার স্বামী ও আমজাদুল হক কলকাতায় যান। ওই সময়ে দূতাবাস খোলার কোনও সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারা একটি তথ্যকেন্দ্র খুলতে চাইলেন।’

কূটনীতিকরা বাংলাদেশের নেতাদের যুক্তি দিলো যে, তাদের সব যোগাযোগ দিল্লিতে এবং সেখানে তথ্যকেন্দ্র খুললে কাজ করতে সুবিধা হবে। এ ছাড়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দিল্লিতে যেতে হবে, সেজন্য তথ্যকেন্দ্র সেখানে খোলার অনুমতি চাইলেন। তাঁরা ফেরত আসার পর তথ্যকেন্দ্র খোলেন এবং বিশ্বের সব দেশে চিঠি পাঠানো শুরু করেন।

৬ ডিসেম্বর

৬ ডিসেম্বর যেদিন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারত, সেদিন অনেক লোক আমাদের বাসায় ফুল নিয়ে এসেছিল।

খালেদা বলেন, ওইদিন আমার স্বামীর শরীর ভালো ছিল না। তারপরেও তিনি সবার সঙ্গে দেখা করেন। পরদিন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ফোন করেন স্বীকৃতির চিঠি হস্তান্তরের জন্য এবং মুজিবনগর সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

১৬ ডিসেম্বরের অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত ভালো লাগছিল। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছিল আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি থাকা উচিৎ ছিল।’

 

 

 
/এসএসজেড/এফএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম