X
সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ২ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২১ এপ্রিলের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সর্বত্র খাদ্যশস্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র পরিবহনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রের বরাত দিয়ে বাসসের খবরে বলা হয়, দেশের সর্বত্র খাদ্যশস্য ও অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র পরিবহনে সমাজবিরোধীরা যাতে কোনও অবস্থাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, তার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ যেন খাদ্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র পেতে পারেন এবং এসব পেতে জনগণের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য দেশের সর্বত্র খাদ্যশস্য ও অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র পরিবহনের জন্য এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সময় মতো খাদ্যশস্য পেতে কারও যেন কোনও রকম কষ্ট পেতে না হয়, সে জন্য যেকোনও মূল্যে খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার সর্বাধিক চেষ্টা চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সরকার দেশ থেকে দুর্নীতি ও সর্বপ্রকার সমাজবিরোধী তৎপরতা নির্মূল করার পরিকল্পনা করছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মজুতদার, চোরাচালান এবং কতিপয় পণ্যের অকারণ মূল্য বৃদ্ধির জন্য যারা দায়ী, খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আরও জানা গেছে, দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে যেসব সমাজবিরোধী অন্তরায় সৃষ্টি করবে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।

১৯৭৩ সালের ২২ এপ্রিলের বাংলাদেশ অবজারভার প্রতিকার শিরোনাম ফরাসি মনীষীর ভূয়সী প্রশংসা

উপন্যাসিক ও চিন্তাবিদ আঁদ্রে মালরো এইদিন মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ ও রক্তদানের জন্য বাংলাদেশের ছাত্র ও শিক্ষকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে এরূপ ঘটনা বিরল।’ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রামে ছাত্র ও শিক্ষকের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই হচ্ছে পৃথিবীর একক বিদ্যালয়, এখানে অনেকে প্রাণ দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রসমাজের সেই দেশ গড়ার কাজ আগামী দিনে বংশধরদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ এদিন গণভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে আন্তরিক সংবর্ধনা জানানো হয়।

পাকিস্তান অনমনীয়

বাংলাদেশ কর্তৃক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অধিকার ও পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের ফেরতদানের প্রশ্নে পাকিস্তান অনমনীয় ও আপসহীন মনোভাব গ্রহণ করেছে। সুইস রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে প্রদত্ত পাকিস্তানের বিবৃতির পূর্ণ বিবরণ থেকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশ-ভারতের যুক্ত ঘোষণাকে পাকিস্তান শুধু পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তিদানের প্রশ্নে শর্তযুক্ত প্রস্তাব বলে মনে করে। পাকিস্তানের মতে, যুদ্ধবন্দিদের একতরফাভাবে ও বিনাশর্তে মুক্তি দেওয়া ভারতের কর্তব্য। বিবৃতিতে সুস্পষ্ট ভাষায় বলা হয় যে, যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং পাকিস্তানিদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত প্রশ্নে পাকিস্তানের পূর্বের মনোভাবের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি।

১৯৭৩ সালের ২২ এপ্রিলের পত্রিকার শিরোনাম বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা হবে

পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী ও আটক অসামরিক ব্যক্তিদের ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ঘোষণার কতিপয় প্রশ্নের ব্যাখ্যা লাভের জন্য পাকিস্তানের আলোচনা বৈঠকের প্রস্তাবকে ভারত সরকার বিবেচনা করে দেখছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়। আরও মন্তব্য করা হয়, পাকিস্তানের কাছে চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার আগে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

৩৯ জন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাবে না

বাংলাদেশ সরকার ৩৯ ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে ঘোষণা করে। এ সম্পর্কিত সরকারি নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে যে, এই ৩৯ ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাবে না। এতে বলা হয়, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আদেশের তিন নম্বর ধারা বলে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নোটিফিকেশনে কারণ হিসেবে বলা হয়, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। তাদের আচরণও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভের উপযুক্ত না এবং তৃতীয়ত তারা পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
‘সমস্যা থাকলে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করুন’
‘সমস্যা থাকলে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করুন’
ধর্মের নামে যেন স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি
ধর্মের নামে যেন স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি
কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি আমাদের সর্বোত্তম নির্বাচন: মাহবুব তালুকদার
কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি আমাদের সর্বোত্তম নির্বাচন: মাহবুব তালুকদার
১৪ দিন পিছিয়ে যাচ্ছে বইমেলা
১৪ দিন পিছিয়ে যাচ্ছে বইমেলা

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
‘সমস্যা থাকলে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করুন’
ডিপ্লোম্যাটিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব‘সমস্যা থাকলে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করুন’
ধর্মের নামে যেন স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি
ধর্মের নামে যেন স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি
কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি আমাদের সর্বোত্তম নির্বাচন: মাহবুব তালুকদার
কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি আমাদের সর্বোত্তম নির্বাচন: মাহবুব তালুকদার
১৪ দিন পিছিয়ে যাচ্ছে বইমেলা
১৪ দিন পিছিয়ে যাচ্ছে বইমেলা
আর যেন কখনও মঙ্গা দেখা না দেয়: প্রধানমন্ত্রী
আর যেন কখনও মঙ্গা দেখা না দেয়: প্রধানমন্ত্রী
© 2022 Bangla Tribune