বিদেশ যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর দূত

উদিসা ইসলাম
২৮ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০০ আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০০

বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৮ এপ্রিলের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ দূত এম আর সিদ্দিকী সপ্তাহব্যাপী সরকারের লক্ষ্য নিয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যান। ১৯৭৩ সালের এইদিন কলকাতা হয়ে লন্ডনের পথে যাত্রা করেন তিনি।

এনার খবরে বলা হয় বিদেশে অবস্থানকালে সিদ্দিকী উপমহাদেশের মানবিক সমস্যার সমাধান ও ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রস্তাবের অনুকূলে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন।

উপমহাদেশে উত্তেজনা হ্রাসে বাংলাদেশের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা করেন, পাকিস্তানের নেতারা শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা স্বীকার করে নেবে এবং ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, এই উদার ও মহৎ প্রস্তাবটি গ্রহণ করা না করা এখন পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করছে। আটক বাঙালিদের বিচারের হুমকি সম্পর্কে সিদ্দিকী বলেন, বাঙালিদের দেশে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বজনমত সন্দেহাতীতভাবেই পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

বিদেশ যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর দূত ভারতে আটক সেনাদের হয়তো বরখাস্ত করবেন ভুট্টো

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এ আর মল্লিক মনে করেন প্রেসিডেন্ট ভুট্টো পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দিদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নন। সৈনিকরা ২২ মাসের বেশি বিদেশে আটক থাকলে তাদের সাধারণত অকেজো ঘোষণা করা হয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর নতুন ডিভিশন সৃষ্টি করে শেষ পর্যন্ত হয়তো ভারতে আটক সেনাদের বরখাস্ত করার জন্য সময় নিচ্ছেন তিনি। এ ব্যাপারে হয়তো তিনি নতুন সরকারের সমর্থন আশা করছেন।

দিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যেক যুদ্ধাপরাধীর বিচারের অধিকারকে পাকিস্তান চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। পাকিস্তান অপরাধীদের বিচার করবে বলে যে প্রস্তাব দিয়েছে, মল্লিক তাকে ‘ঠাট্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, তবে কি যুদ্ধাপরাধীরা নিজেরাই নিজেদের বিচার করবে?

তিনি বলেন, বিচারের সাক্ষ্যদানের জন্য বাঙালিদের দল বেঁধে পাকিস্তান পাঠানোর কথা চিন্তাও করা যায় না।

ভুট্টোর কাছ থেকে মুক্তির জন্য বুলেট লাগবে

পাকিস্তানের মার্শাল আসগর খান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোর শাসন থেকে মুক্তি লাভের জন্য শক্তির দরকার হতে পারে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশকে মৃত্যুর হাত থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য সংসদীয় পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে। ভুট্টোর কাছ থেকে মুক্তির জন্য বুলেট লাগবে।

শহরে কলেরা, তবু খোলা খাদ্য বিক্রি

রাজধানী ঢাকায় কলেরার প্রকোপ বেড়েছে। এই রোগে দিনে ৬ থেকে ৭ জন আক্রান্ত হচ্ছিল। প্রতিদিন গড়ে তিন-চারজনকে কলেরার চিকিৎসার জন্য মহাখালী কলেরা হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছিল। সেই বছর প্রথম থেকে ঢাকায় বসন্ত ও পরে কলেরায় শতাধিক লোক আক্রান্ত হয়। বেসরকারি হিসেবে জানানো হয় এ রোগে মৃত্যু হয়েছে কিছু লোকের। ঢাকা পৌরসভা থেকে চারমাসে প্রায় চার হাজার ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করা হয়। তবে এ পর্যন্ত ঢাকায় শতাধিক ব্যক্তি কলেরা আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বীকার করা হলেও মৃত্যুর খবর জানা যায়নি।

বিদেশ যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর দূত বাংলাদেশের নোট ছাপিয়ে গোপনে এদেশে চালান

স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে এদেশে চালান করার জন্য পাকিস্তান সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশের নোট ছাপিয়েছে। এসব দালাল অবাধে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে এবং স্বাভাবিক পেশায় নিয়োজিত রয়েছে।

শনিবার এনা পরিবেশিত এই খবরে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা একজনের বরাত দিয়ে বলা হয়, এসব জালনোট সেখানে নিয়মিত ছাপিয়ে স্থানীয় দালালদের কাছে ডেলিভারির জন্য পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার জন্য ভুট্টো সরকার একটি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে এসব জালনোট আসা বন্ধ করা গেলে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটা হ্রাস করা যাবে। সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ছাপানো এসব জালনোট বাংলাদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন পাকিস্তান সমর্থক ব্যক্তির মাধ্যমে দেশে অব্যাহতভাবে পাচার হয়ে আসছিল।

/এফএ/
সম্পর্কিত
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি নিষিদ্ধ নয়, তবে চাপ কেন?
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়: শোরুমে হামলার প্রতিবাদ ইউপিএলের
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি বন্ধের চাপ, ইউপিএলের দুই কর্মীকে আটকের পর মুক্তি
সর্বশেষ খবর
ইরাক প্রবাসীদের জন্য সুখবর
ইরাক প্রবাসীদের জন্য সুখবর
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ: ডিএমপি
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ: ডিএমপি
কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে মানুষের ঢল, ভক্তদের আহ্বান ‘আবার দেখা হবে’
কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে মানুষের ঢল, ভক্তদের আহ্বান ‘আবার দেখা হবে’
একদিনে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১০
একদিনে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১০
সর্বাধিক পঠিত
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর
পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান