ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর সুপারিশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৪:৩৪আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৫৬

আগামী অর্থবছরের (২০২২-২২) জাতীয় বাজেটে ধনীদের আয়কর বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব সুপারিশ তুলে ধরে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

একইসঙ্গে ইন্টারনেটের সম্পূরক শুল্ক ও সোর্স ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবিও করেছে তারা। এছাড়া বাজেটে স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি ও শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে বাজেটের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-রি-অ্যাডজাস্টমেন্ট, রিকোভারি ও রিফর্ম।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। মূল প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান।

প্রতিবেদন তুলে ধরার সময় তৌফিক ইসলাম বলেন, ধনীদের আয়কর গত বছর ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। এটাকে আবার ৩০ শতাংশ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। সামষ্টিক অর্থনীতি ও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এটা সামঞ্জস্য। বিভিন্ন দেশ এখন এটা করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ধনীদের কর হার বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইন্টারনেটের সম্পূরক শুল্ক ও সোর্স ট্যাক্স প্রত্যাহার

ইন্টারনেটের সম্পূরক শুল্ক ও সোর্স ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটা শুধু ধনীরা ব্যবহার করেন এখন আর এমনটা নেই। অনেক সাধারণ মানুষকে শিক্ষার কাজে বা অন্য কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে। যে ধরনের করকাঠামো এখানে আছে, আমরা মনে করি এটা সহায়ক অবস্থায় নেই। আমরা সুপারিশ করছি সম্পূরক শুল্ক যে ১৫ শতাংশ আছে তা প্রত্যাহার করা। সেই সঙ্গে ১ শতাংশ যে সোর্স ট্যাক্স রাখা হয়েছে তাও প্রত্যাহার করা। এখন শুধুমাত্র যে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে সেটাকে রেখে, এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক মওকুফ করা উচিত। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে, যদিও এর মাধ্যমে কিছু রাজস্ব আদায় হয়।

ঋণের ওপর জোর

বাজেট ঘাটতি মেটানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়ে তৌফিক ইসলাম বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ব্যাংক খাতে বড় পরিমাণে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। আমরা অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা বলছি, সে ক্ষেত্রে বাজেট ঘাটতি যদি বেশি হয়, তাহলে ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংকোচ না করাটাই যুক্তিযুক্ত হবে। কারণ এখন বেসরকারি খাতে চাহিদা কম।

স্বাস্থ্য খাতের বাজেট

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, কোভিড চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে ধরনের বাজেট বরাদ্দ দরকার তার ক্ষেত্রে সরকার যেন কোনও ধরনের কুণ্ঠাবোধ না করে। এটা নতুন ইউনিটের ক্ষেত্রে, আইসিইউ, অক্সিজেনের ক্ষেত্রে।

সিপিডির রিসার্চ ফেলো আরও বলেন, এই মুহূর্তে সব থেকে খারাপ পারফর্ম করা একটা বিভাগ হলো স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য খাতে যে ধরনের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনর অনিয়ম, দুর্নীতি, বেশি দামে পণ্য কেনার খবরগুলো আমাদের কাছে খুবই দুঃখজনক মনে হয়েছে। আমাদের যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে, যেন ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিবন্ধকতা না হয়।

বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বন্ধ

বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে বের হয়ে আসা উচিত বলে মনে করছে সিপিডি। তৌফিক ইসলাম খান বলেন, গত অর্থবছরে অপ্রদর্শিত অর্থ কিংবা কালো টাকা সাদা করার কথা বলে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে আসা উচিত। এটি কর আহরণের যে নীতিকাঠামো তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও এ বছর ভালো একটি অঙ্ক এ খাত থেকে এসেছে। তারপরও আমরা মনে করি এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসা উচিত।

তিনি বলেন, যারা টিআইএন ও বিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না তাদের বাধ্য করা বা করের আওতায় আনাটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কালো টাকা ও অর্থ পাচারের যে সংস্কৃতি রয়েছে, সেখান থেকে বের হয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মোকাবিলার প্রতি মনযোগী হতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি অর্থ বছরে এ খাত থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। যেটা খুব বড় অঙ্ক বলে মনে হয় না। বরং আমরা মনে করি যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন তাদেরকে নিরুৎসাহিত করছে।

এনবিআরের তথ্যানুসারে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সাত হাজার ৪৪৫ জন করদাতা ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা তথাকথিত সাদা করেছেন। এর বিনিময়ে কর এসেছে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা।

চলতি বছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছিল, প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেন, ব্যক্তি শ্রেণির কর দাতাদের চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা যেকোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে কর্তৃপক্ষসহ কেই প্রশ্ন করতে পারবে না। একই সময় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে, ওই বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর দিলে, আয়করসহ কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না।

 

/জিএম/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম