প্রতিবেশী দেশ ভারতের করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ ধাক্কা বাংলাদেশেও আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেখানে অক্সিজেন ও বেডের জন্য প্রতিদিনই হাহাকার। ভ্যাকসিনের উৎপাদক দেশ হয়েও সেখানে ভ্যাকসিনের ঘাটতির অভিযোগ আসছে মিডিয়ায়। এ অবস্থায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশের যে অবস্থা তার ধাক্কা আমাদের এখানেও লাগতে পারে। আমাদের কমে যাচ্ছে এটা মনে করে কোনও অবস্থায় আত্মবিশ্বাসী হলে চলবে না।’
আজ সোমবার (৩ মে) সকালে ময়মনসিংহ সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসি'র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ আশঙ্কার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা কখন কমে আর কখন বাড়ে তা বলা সম্ভব নয়। আমরা তো মার্চ মাসে ভেবেছিলাম করোনা চলেই গিয়েছে। হঠাৎ আবার এসে কোথায় আক্রান্ত ৩০০ থেকে ৭/৮ হাজারে চলে যায়। আমাদের দেশে প্রথম ঢেউয়ে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার যেখানে ষাটের ওপরে ওঠেনি সেখানে এবার ১১২ তে গিয়ে ঠেকেছে। এখনও ৬০/৭০ এর মধ্যে ওঠানামা করছে। এটা কখন যে আরও বেড়ে যাবে সেটা আমরা বলতে পারি না। আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনও কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের মধ্যে আত্মতুষ্টি দেখা গিয়েছিল। যার কারণে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতা থেকে তারা রক্ষা পাচ্ছে না। প্রতিবেশী দেশের এই যে বিপদজনক বার্তা, এর থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের মাস্ক পরতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এ বিষয়ে আরও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। আল্লাহর রহমতে আমাদের এখানে এখনও কোনও অক্সিজেন সংকট বা বেডে ঘাটতি সৃষ্টি হয়নি।’
সাড়ে ৩৬ লাখ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আড়াই হাজার করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সরকারের ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সাড়ে ৩৬ লাখ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা পৌঁছে গেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘গতবার অর্থ বিতরণ নিয়ে অনেকগুলো অভিযোগ এসেছিল। যার কারণে বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেককে আমাদের শাস্তি দিতে হয়েছে। অনেক জনপ্রতিনিধিকে কারাগারেও যেতে হয়েছে। এই দুর্যোগের সময় এ ধরনের অপকর্ম যারা করে, খেটে খাওয়া মানুষের অর্থ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সাহায্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে তারা গণদুশমন। এদের চিহ্নিত করতে হবে। গরিবদের দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে আত্মীয়স্বজনকে এ তালিকার মধ্যে নিয়ে আসা এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এবারে ওই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হলে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’









