আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আওতা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি হচ্ছে বলে জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকাল তিনটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করছেন তিনি। এবারের বাজেটের আকার প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সর্বাধিক দারিদ্রপ্রবণ ১১২টি উপজেলায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী দরিদ্র প্রবীণ ব্যক্তিকে শতভাগ ‘বয়স্ক ভাতার’ আওতায় আনা হয়েছে। আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছর হতে ‘বয়স্ক ভাতা’ কার্যক্রমে উপকারভোগীর কভারেজ বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য শতভাগ বয়স্ক মানুষকে অতি উচ্চ ও উচ্চ দারিদ্রভুক্ত গ্রুপের আরও ১৫০টি উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এতে করে ৮ লাখ নতুন উপকারভোগী যোগ হবে এবং এ খাতে ৪৮১ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে সর্বাধিক দারিদ্রপ্রবণ ১১২টি উপজেলায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাকে শতভাগ বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা কার্যক্রম এর আওতায় আনা হয়েছে। আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছর হতে এ কার্যক্রমে উপকারভোগীর কভারেজ বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য শতভাগ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে অতি উচ্চ ও উচ্চ দারিদ্রভুক্ত গ্রুপের আরও ১৫০টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এতে করে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার জন নতুন উপকারভোগী যোগ হবে এবং এ খাতে ২৫৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সর্বশেষ প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ অনুযায়ী অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৮ হাজার জন বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে এ বাবদ ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।
বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় খাতে বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রায় ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আগামী ২০২১ ২০২২ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি, যা বাজেটের ১৭.৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩.১১ শতাংশ।









