লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
বুধবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে ঈদের সময় নৌযান চলাচল বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, বিধিনিষেধ শিথিল থাকায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত যাত্রীবাহী লঞ্চ চলবে। পরদিন ২৩ তারিখ থেকে চলাচল বন্ধ থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লঞ্চের ডেকে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখতে হবে। এজন্য ডেকের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিলে লঞ্চ মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাস, ট্রেনের সিটে নম্বর দেওয়া থাকে। লঞ্চের ক্ষেত্রে তা জটিল। লঞ্চের কেবিনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা যায়, ডেকের ক্ষেত্রে কষ্টকর হয়ে যায়। বিধিনিষেধ না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লঞ্চ মালিকরা ডেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কারণ আমরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছি।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, করোনার প্রথম ওয়েভে গতবার ডেকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে ডেকগুলোতে মার্কিং করা হয়। এবারও মার্কিং করেছি। ডেকগুলোতে নির্দেশনা অনুযায়ী বসতে হবে। শতভাগ মাস্ক পরতে হবে। এ ব্যাপারে কোনও ধরনের ছাড় নেই। লঞ্চ মালিক, বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বলেছি যেসব লঞ্চ মালিকরা শিথিলতা দেখাবে তাদের আমরা জরিমানার আওতায় আনব। লঞ্চ মালিকরা লঞ্চের স্টাফদের করোনা পরীক্ষা করে তাদের লঞ্চে কাজ করতে দিবেন।’
নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিথিল বিধিনিষেধের মধ্যে আগামীকাল (১৫ জুলাই) থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত লঞ্চ চলবে। কারণ ২১ জুলাই ঈদ। ২৩ জুলাই থেকে ফের চলাচল বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা আসবেন কিনা এবং ঢাকা থেকে বের হয়ে যাবেন কিনা। কারণ যাওয়া ও ফিরে আসাটা ঝুঁকিপূর্ণ।’
পরিস্থিতি সামাল দেওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৩ জুলাই থেকে বিধিনিষেধের মধ্যে কলকারখানা বন্ধ থাকবে। সেক্ষেত্রে লঞ্চের ওপর ফিরতি চাপটা খুবই কম হবে। আমরা বিধিনিষেধ অনুসরণ করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। সবাই যদি সহযোগিতা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চযাত্রা করতে পারব।’
ঈদের পরিস্থিতি সামাল দিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে সুরক্ষিত রাখাটাই চ্যালেঞ্জ। এরসঙ্গে সবাইকে যুক্ত হতে হবে। নইলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে না। ঈদের একদিন পর থেকে যেহেতু বিধিনিষেধ শুরু হবে তাই ধারণা করছি মানুষ স্থানান্তর কম হবে। মনে করছি যাত্রীর চাপও কম হবে।’
গত রোজার ঈদে ফেরি দখল করে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি দখল করে নিয়ে যায় আমরা তো আক্রমণাত্মক হতে পারি না, কারণ আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, সামরিক সরকার না। আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি জনগণ স্বাস্থ্যবিধিগুলো অমান্য করেছে, এখানে দুঃখ পাওয়া ছাড়া কিছু করার নেই। ফেরিগুলো শুধু যানবাহন পারাপারের জন্য, মানুষ পারাপারের জন্য নয়।‘









