রবিবার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু রাজধানীর হাজারিবাগ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ট্যানারি স্থানান্তর না করলে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তা মানতে রাজি নয় মালিকরা। মন্ত্রীর নির্দেশের পর গত দুদিনে হাজারিবাগে গিয়ে দেখা গেল নিত্যদিনের মতো ট্যানারিগুলোর কাজ চলছে। মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করলে দেশের চামড়া শিল্প খাত বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন মালিকরা।
হেলেনা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ট্যানারিস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাভারে গিয়ে কারখানা চালুর পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। সেখানে এখনও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ শেষ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রী কারখানা বন্ধ করে দিলে পুরো শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে।
জহির লেদার কমপ্লেক্সের স্বত্ত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমারা আমাদের জায়গায় আছি, কাজ চলছে। একটা কারখানা চাইলেই স্থানান্তর সম্ভব নয়। মেশিন খুলে নিয়ে আবার স্থাপনে সময় লাগে। সবচেয়ে বড় কথা সাভারে এখনও কারখানা স্থাপন কাজ, বর্জ্য শোধনাগারসহ অনেক কাজ শেষ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রী কেন এমন কথা বললেন আমরা জানি না।
জি এম লেদার এক্সপোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী সামসুজ্জামান মারুফ বলেন, একটি কারখানার একটি মেশিন সরাতেও ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে। আমরা তো সাভারে যেতেই চাই। সেখানে কাজ চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনা না করে কোনও ঘোষণা দিয়েই তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
জানা গেছে, রবিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে শিল্পখাতের উন্নয়নে সরকার গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম মূল্যায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও সংস্থার প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত সভায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ট্যানারি স্থানান্তর না করলে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারখানা স্থানান্তরে ব্যর্থ হলে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিলেরও নির্দেশ দেন তিনি।
জানা গেছে, সাভারে বাস্তবায়নাধীন চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের ট্যানারির বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থাসহ আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য সরকারের মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থও দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও ট্যানারি সরানোর প্রক্রিয়া আটকে আছে। বিসিক ও ট্যানারি মালিকদের দুই সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ট্যানারি মালিকদের ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হাজারিবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের কথা ছিল। দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ গত বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কারখানা স্থানান্তরের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানারিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ সাখাওয়াত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্থানান্তর কোনভাবেই সম্ভব নয়। উনি আসলে কী উদ্দেশ্যে একথা বলছেন জানি না। তবে,শুনেছি কয়েকটি ট্যানারির মালিক স্থানান্তরের কাজ খুবই ধীর গতিতে করছেন। তাদের শাসাতে হয়তো একথা বলেছেন মন্ত্রী।
মোহাম্মদ সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, আমারা সেখানে গিয়েই আর কী করবো। সরকার বর্জ্য শোধন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ একটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। এখনও সে কাজ শেষ হয়নি। আমরা সাভারে গিয়ে কাজ শুরু করলে কোথায় বর্জ্য ফেলবো? আমরা সবেমাত্র কোরবানির চামড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছি,এখন আমাদের হাতে অনেক কাজ। এমন পরিস্থিতিতে স্থানান্তর করা হলে বড় লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
/সিএ/এফএ/








