ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কয়েকটি অভিযোগ এনে তা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে সংসদীয় কমিটি। গেল বছরের হজ ব্যবস্থাপনাসহ কয়েকটি বিষয়ে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন কমিটির সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।
মঙ্গলবারের বৈঠকে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয় ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। পরে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের অনুরোধে নজিবুল বশর অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করেন। সূত্র জানিয়েছে মন্ত্রীর বয়স ও পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে লেখালেখির কারণে কমিটি নতুন করে বিষয়টি সামনে না আনতে তদন্তের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
এ বিষয়ে নজিবুল বশর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কমিটির সদস্যরা বিভক্ত হয়ে গেলে কোনও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন। অন্য সদস্যরা অনুরোধ করায় আমি আমার অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করেছি। কাজেই এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না।
অবশ্য ধর্মমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, ধর্মমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো- গত বছর হজের সময় নিজের লোক পাঠানো, বাড়ি ভাড়া নিয়ে দুর্নীতি, ট্রলি ব্যাগ কেনা এবং নিজ নির্বাচনি এলাকায় ধর্মীয় উপসানালয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছিলেন তিনি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আসলামুল হক, সাধন চন্দ্র মজুমদার, একেএমএ আউয়াল (সাইদুর রহমান), আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, মো. মকবুল হোসেন এবং মোহাম্মদ আমির হোসেন অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগের বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ওই বৈঠকে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের একেএমএ আউয়াল (সাইদুর রহমান), কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন ধর্মমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, হজের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সংসদীয় কমিটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
কিন্তু গত বৈঠকে মন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবারের বৈঠকে মন্ত্রীর কাছে এসব বিষয়ে জানতে চান কমিটির সভাপতি।
জবাবে মন্ত্রী এসব দুর্নীতি অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখার কথা বলেন। পরে কমিটির সভাপতি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলে মাইজভান্ডারী তার সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান।
/এনএস/এফএ/








