পদ্মার পরিণতির দিকে যমুনা!

উদিসা ইসলাম
১৩ জানুয়ারি ২০১৬, ১৩:০৭আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৬, ১৬:০৯

পদ্মার পরিণতির দিকে যমুনা পানিবণ্টনের চুক্তির পরও ভারতের ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ঠিকমতো পানি না পাওয়ায় পদ্মা একদিকে যেমন দিক পাল্টেছে, আরেকদিকে দুইমাস ছাড়া বাকি সময় নদীর বেশির ভাগ অংশ পরিণত হয় ধূ ধূ মরুভূমিতে। ঠিক তেমনই পরিণতির দিকে যাচ্ছে যমুনা। যমুনার মাঝবুকে যে চর ভরা মৌসুমেও তা এখন আর ডোবে না। শাখা-প্রশাখা সরু হতে হতে এখন খালের চরিত্রও হারিয়েছে যমুনা। নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানে পানি আটকানোর ইতিহাস আর নদী শাসনের বৈশিষ্ট্য আমাদের না জানা থাকায় নদী তার আপন গতি-প্রকৃতি হারিয়েছে। 
পদ্মার পরিণতির দিকে যমুনা ব্রহ্মপুত্রের উজানে চীন ফারাক্কার মতোই মরণ বাঁধ তৈরি করেছে এবং এরই কারণে যমুনাও পদ্মার মতোই পরিণতি বরণ করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মূল স্রোতধারা ব্রহ্মপুত্র নদের চীনের অংশে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি চীনের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে (তিব্বত অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র) একটি জলবিদ্যুত প্রকল্প চালু করা হয়েছে। আরও চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে।
বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ব্রহ্মপুত্রের ৬০ শতাংশ অংশ রয়েছে চীন ও ভুটানে। সেই চীনের অংশে পাঁচটি বাঁধ নির্মাণ করা হলে দেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত যমুনার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে। এ আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে অযাচিত চর, নদীভাঙন, নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
পদ্মার পরিণতির দিকে যমুনা সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে পানি অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় অসংখ্য চর জেগেছে। ভরা মৌসুমেও তার গতি ভীষণ ক্ষীণ। চ্যানেলগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নৌ-চলাচল পর্যন্ত ব্যাহত হয়। ফলে সারিয়াকান্দির সঙ্গে স্থানীয় কয়েকটি চর ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে নদী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করেছে।
পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, দেশের পানি সম্পদের অর্ধেকেরই যোগান আসে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে। এছাড়া শীতকালে দেশের নদীগুলোর প্রয়োজনীয় পানির ৭৫ ভাগই যোগান দিয়ে থাকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। নদী যদি পশ্চিমে সরতে থাকে তাহলে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হবে।
এদিকে জলবায়ু বিশ্লেষক ড. আইনুন নিশাত মনে করেন, আমাদের নদীগুলোর চরিত্রগুলো বুঝতে হবে। সব নদীর চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য এক রকম নয়। আবার বেশিরভাগ বড় নদীর ক্ষেত্রে পানির সুষম বণ্টনের নজরদারি থাকা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সব নদীর পলি ধারণের ক্ষমতা একরকম নয়। সবচেয়ে বেশি পলি ধারণ করে পদ্মা, যমুনা ও তিস্তা। তাই নদীর বৈশিষ্ট্যকে সমুন্নত রেখে তাকে ব্যবহারোপযোগী করতে হবে। এ জন্য নদীশাসন যেমন জরুরি, তেমনই নদীশাসনের আগে নদীর বৈশিষ্ট্য বোঝাও জরুরি। পদ্মার পরিণতির দিকে যমুনা
তিনি আরও বলেন, যমুনায় এখনও যে পরিমাণ পানি আছে, সেখানে একটা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে এখনও বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
আইনুন নিশাত আরও বলেন, নদীকে রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে নদী প্রশস্ত হয়েই গেছে এবং গভীরতা কমেছে। ফলে চর এখন দৃশ্যমান। নদীর তীরকে সংকুচিত না করে ড্রেজিং করা হলেও নদী কোনভাবেই প্রশস্ত করা যাবে না। এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে যেটা করতে হবে তা হলো নদীকে আঁকাবাঁকা করে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক ভাবে এভাবে নদী নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ আছে। তবে নদীকে অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ না করে ৫৫ বছর আগের পরিস্থিতিতে ফেরানোর প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম।

/এফএস/ 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম