রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তোষ এখন চরমে। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রও এ ব্যাপারে তীব্র উদ্বেগ জানিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করার জন্য সরকারকে জোর তাগিদ দিয়েছে। এ বিষয়ে দরকারি সহায়তা দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে এসেছিল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের অক্টোবরে মিশরে রাশিয়ার একটি বিমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এই উদ্বেগের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। এরপর যুক্তরাজ্য দুইবার প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করে এসবের উন্নয়নের জন্য একাধিক সুপারিশ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের একটি সম্মিলিত প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ঢাকা সফর করে। এ সময়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঘাটতি দ্রুততার সঙ্গে পূরণ করতে হবে এবং এজন্য তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
এছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন থেকে একটি প্রতিনিধিদল আগামী মাসে ঢাকা আসবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধিদল ঢাকা পরিদর্শনের পর যে নিরাপত্তা প্রতিবেদন দিয়েছিল সে বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এটি আমলে নিয়ে জানিয়েছে এ প্রতিবেদনের সুপারিশের সঙ্গে তারা একমত।
তিনি বলেন, এসব সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় তা নিয়ে ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই কর্ম পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চায় এবং এ ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তা দিতেও তারা প্রস্তুত।
যুক্তরাজ্যের দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর বলে মনে করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হলে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত হয়ে যেতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ গত সোমবার একটি টেকসই পরিকল্পনা দিয়েছে যুক্তরাজ্যকে।
/টিএন/








