আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন না দিলে দেশের চলমান সংকট থেকে রক্ষা পাবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির যুব সংগঠন যুব জাগপার ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আবারও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসন করি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। এ সংকটে শুধু দেশ, গণতন্ত্র আর মানুষেরই ক্ষতি হবে না। এ সংকট থেকে আপনারাও রক্ষা পাবেন না।’
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র। ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষে মানুষ না থাকায় তারা বিভিন্ন অবৈধ কৌশল অবলম্বন করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ এখন সিকিউরিটি স্টেট পরিণত হয়েছে। এখানে কারও কোনও অধিকার নেই। পুলিশ দাম্ভিকতা করে বলছে, মাছের রাজা ইলিশ, দেশের রাজা পুলিশ। সম্প্রতি ডিসিসির এক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র। আমরা যদি ঐক্যদ্ধ না হই তাহলে কেউ পার পাবে না। আপনারাও (সরকার) পার পাবেন না।’
সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণ জেগে উঠলে ঠেকানোর ক্ষমতা থাকবে না। অহংকার, দাম্ভিকতা করবেন না। এটা করে কোনও সরকার টিকে থাকতে পারেনি। তাই সব দলের অংশগ্রহণে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি নির্বাচন দিন।’
যুব জাগপার সভাপতি ফাইজুর রহমানের সভাপতিতে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।
/এসটিএস/এসটি/








