বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ পূরণ ও এর অসঙ্গতি দূর করার দাবিতে শিক্ষকদের ডাকা কর্মবিরতি শনিবার ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে।
গত পাঁচ দিনের মতো শনিবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে চলছে অচলাবস্থা। সবগুলো বিভাগে বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা। স্বল্প পরিসরে চলছে বিভাগগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
এদিকে, শনিবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে জাবি শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্যসূচি ছিল ‘চলমান আন্দোলন নিয়ে করণীয়’। কর্মবিরতির মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে কি না এ ব্যাপারেই মূলত আলোচনা হয় ঘন্টাব্যাপী ওই সভায়।
আন্দোলনে যাতে ভাটা না পড়ে সেজন্য পরীক্ষা বর্জন করেই কর্মবিরতি চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে আমরা শিক্ষক হিসেবে তা মেনে নিতে পারি না। আমরা আসলে যে পর্যায়ে গেছি, সেখান থেকে ফেরার আর উপায় নেই। আমরা যদি আমাদের দাবি-দাওয়া আদায় করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কোনও মেধাবী আসবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের বোধোদয় হবে। শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে ক্লাসে ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা করবে। শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তা পূরণ করার চেষ্টা করব।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন বলেন, সভায় আমরা সর্বাত্মক কর্মবরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পূণর্ব্যক্ত করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
উল্লেখ্য, চলমান আন্দোলনে জাবির ১০ টি বিভাগ ও দুইটি ইনস্টিটিউটে এ পর্যন্ত ১৯ টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আন্দোলন অব্যাহত থাকলে আরও ছয়টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা আরম্ভ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। গত বছরের জুন থেকে দফায় দফায় চলা শিক্ষক আন্দোলনের কারণে দীর্ঘমেয়াদী সেশন জটে পড়তে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
/এফএস/








