কৃষি আবহাওয়া, জলবায়ু ও নদ-নদীর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কিত উন্নত মানের পরিষেবা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছাতে তথ্য পদ্ধতি পোর্টাল স্থাপন করছে সরকার। এ জন্য ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ’ নামে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একই সঙ্গে কৃষি সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উন্নত পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সক্ষমতা বাড়বে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
সূত্র জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি সরকার গ্রহণ করে ২০১৬ সালে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কয়েকটি কারণে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে একনেকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় নতুন করে কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক প্রায়োগিক গবেষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১২টি কমিউনিটি রেডিও স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক নতুন বিভাগ চালুর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী নতুন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়াও দেশের সব উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম চালুর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ৫টি উপজেলা প্রকল্প এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভ্যাট, ট্যাক্স, প্রাইস কন্টিনজেন্সি এবং অন্যান্য খাতে সাশ্রয়কৃত টাকা সমন্বয় ও কতিপয় অর্থনৈতিক কোডও সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়ন মেয়াদ আরও ২ বছর বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
সূত্র জানায়, দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৫৪টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ১১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ১ম সংশোধিত আকারে ২০২৩ সালের জুনে শেষ হবে। প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে চলমান প্রকল্পের তালিকায় ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বাবদ পাওয়া গেছে ১৯৭ কোটি ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শস্য উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জলবায়ু-সহিষ্ণু উৎপাদনের লক্ষ্যে শস্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের অভিমতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আবহাওয়া, জলবায়ু ও নদ-নদীর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কিত উন্নত মানের পরিষেবা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উন্নত পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সক্ষমতা বাড়বে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, এটি একটি সময়োপযোগী প্রকল্প। প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়নের ফলে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উন্নত পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সক্ষমতা বাড়বে।









