অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-১ পর্যন্ত পদোন্নতির সোপান তৈরির প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসে অবশেষে সন্তুষ্ট চিত্তে গণভবন ত্যাগ করেছেন শিক্ষক নেতারা। এর ফলে বেতন স্কেলে মর্যাদার অবনমন নিয়ে তৈরি হওয়া শিক্ষক আন্দোলনের সফল সমাধান হতে চলেছে। সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের টানা সোয়া ঘণ্টার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এহসানুল করিম বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সন্ধ্যায় এ বৈঠক শুরু হয়। এ সময় শিক্ষক নেতাদের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
প্রেস সেক্রেটারি জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো মন দিয়ে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এসময় শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সেজন্য অষ্টম বেতন স্কেলে গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-১ পর্যন্ত পদোন্নতির সোপান তৈরির আশ্বাস দেন। এছাড়াও শিক্ষকদের যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো মেনে নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের যতো দ্রুত সম্ভব ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠক শেষে শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রায় দেড়ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছেন এবং দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আগামীকাল শিক্ষকদের ফোরামে সাধারণ সভা আহ্বান করছেন তারা। ওই সভায় চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই বৈঠকে মোট পাঁচ জন শিক্ষক নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব এএসএম মাকসুদ কামালসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতা ছিলেন।
এছাড়াও ওই বৈঠকে মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জনপ্রশাসন সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ ছিলেন।
গণভবনে আজকের ( সোমবার) পিঠা উৎসব উপলক্ষে গত রবিবার তাদের নিমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল শিক্ষকদের কথা শুনতে চান প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না। আজকের অনুষ্ঠানে শিক্ষক নেতারা যোগ দিলে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তাৎক্ষণিক ভাবেই তাদের কথা শুনতে রাজি হন প্রধানমন্ত্রী। তার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠক শুরু হয়।
এর আগে পিঠা উৎসব উপলক্ষে নিমন্ত্রিত শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা একে একে গণভবনে এসে পৌঁছান। ‘নতুন ধানের চিড়া’ গান দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, মর্যাদা ও বেতন প্রশ্নে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলনের পর ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছেন দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত ২ জানুয়ারি এই লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সবকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এ সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছাও পোষণ করেছিলেন তারা।
/ইই/পিএইচসি/টিএন/








