বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ সমর্থনে আরবদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব জোরদার হয়

উদিসা ইসলাম
২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৭ অক্টোবরের ঘটনা।)

 

যুদ্ধরত আরবদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঠানো বাংলাদেশের চা ও মেডিক্যাল টিম আরব দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পথে এক বিরাট প্রভাব সৃষ্টি করে। মধ্যপ্রাচ্যের লড়াইয়ে আরবদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ সমর্থনের ফলে ভাতৃত্বের মনোভাব আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছিলেন কূটনীতিকরা।

১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে আলজিয়ার্সে জোট-নিরপেক্ষ দেশের শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আরবদের সম্ভাব্য সকল সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন। ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকে আরব বিশ্বে গভীর ছাপ ফেলতে সমর্থ হয়। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের বাংলাদেশের আরবদের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের খবর যেভাবে ফলাও করে আরব দেশের সংবাদপত্র ছাপা হয়েছে তাতে এটাই অনুমিত হয়।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তান যে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছিল তা বাংলাদেশের নীতির ওপর আঘাত করে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতির ওপর পাকিস্তানের মিথ্যা প্রচারণায় আরবদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি।

 

জাপানে থেকে ১০ গুণ বেশি সাহায্য পাবে বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর এবং দেশে ফেরার পথে ম্যানিলা ও কুয়ালালামপুরে স্বল্পকালীন অবস্থানের ফলে বাংলাদেশ ও পূর্ব এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, সমঝোতা ও মৈত্রীর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছিল। বাসসের খবরে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর ছয় দিনের সফর শেষে ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ-জাপান যুক্ত ইশতেহারে দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানানো হয়। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানের কাছ থেকে বিশাল পরিমাণ সাহায্য লাভের সুযোগ পাবে। কারণ সূর্যোদয়ের দেশ জাপান পূর্ব এশীয় দেশগুলোতেই বেশি সাহায্য দিয়ে থাকে।

যুক্ত ইশতেহারে বাংলাদেশকে সহজ শর্তে জাপানের ৯শ কোটি ইয়েন ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বস্তুত পণ্য সাহায্য, প্রকল্প, প্রাইভেট সাহায্যের পরিমাণ হবে আরও বেশি।

বঙ্গবন্ধুর সফরকালে ইশতেহারে ঘোষিত ঋণের চাইতে জাপানের অনেক বেশি পরিমাণ ঋণ প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ পায়। জাপানি সরকারি মহলের মতে বাংলাদেশকে পূর্ব এশীয় উপমহাদেশের পরিবারে স্বাগত জানানোর ফলে বাংলাদেশে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের তুলনায় অন্ততপক্ষে দশ গুণ বেশি সাহায্য করবে। কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে স্বভাবতই বাংলাদেশ এই পরিবারভুক্ত হওয়ার দাবিদার।

১৯৭০ সালে মোট জাপানি সাহায্যের শতকরা ৭৫ ভাগ লাভ করে পূর্ব এশীয় দেশগুলো। ভারতীয় উপমহাদেশ লাভ করে শতকরা ১৩ ভাগ। বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে জাপানি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। জাপানি প্রধানমন্ত্রী কাকুনি তানাকা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়। এতে উভয় দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সম্মত হয়। জাপানি শিল্পপতিরাও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কার্যক্রমে অংশগ্রহণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বঙ্গবন্ধু টোকিও অবস্থানকালে যে যে স্থানে সফরে গিয়েছেন সবখানেই তাকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। জাপান সফর শেষে বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পথে কুয়ালালামপুর ও ম্যানিলায় স্বল্পকাল অবস্থান করেন। তিনি উভয় দেশের সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

 

চায়ের দ্বিতীয় চালান যাচ্ছে

দুই-একদিনের মধ্যে বেনগাজিতে চায়ের দ্বিতীয় চালান পাঠানো হবে। মিসর ও সিরিয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড চায়ের দ্বিতীয় চালানটি দু-একদিনের মধ্যে বিমানযোগে বেনগাজিতে যাওয়ার কথা। তবে তা নির্ভর করছে উড়োজাহাজ কখন পাওয়া যাবে তার ওপর। সরকারি বরাত দিয়ে বিপিআই এ কথা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে উপহার হিসেবে মিসর ও সিরিয়ায় যে ১ লাখ পাউন্ড চা পাঠানো হবে এই চালান তারই অংশ।

 

 

/এফএ/
সম্পর্কিত
আসলেই কি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছে জামায়াত?
বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াতের এমপি
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের ওপর ‘উপজেলার মানচিত্র’ আঁকলেন ইউএনও
সর্বশেষ খবর
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি