পাঁচ বছরেও পদবী পাননি ব্লু ইকোনমি সেলের কর্মকর্তারা

গোলাম মওলা
০২ নভেম্বর ২০২১, ২৩:৫৯আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮:১০

সমুদ্র অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। জানা গেছে, ব্লু ইকোনমি সেলে অন্তত ১৭টি মন্ত্রণালয় ও ১২টি সংস্থা জড়িত। এর একটি স্থায়ী কর্তৃপক্ষ কাঠামো তৈরি করতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘ব্লু ইকোনমি সেল’ গঠন করে সরকার। কিন্তু গত ৫ বছরেও পদবী পাননি ওই সেলের কর্মকর্তারা। এমনকি এই সেলের শীর্ষ কর্মকর্তারও কোনও পদ নেই।

সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে ব্লু ইকোনমি সেল। এই সেলে রয়েছেন দু’জন অতিরিক্ত সচিব, একজন উপসচিব, একজন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেনসহ ৬ জন কর্মকর্তা। সেলটির প্রধান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব এস এম জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই সেল গঠন করা হলেও এর কাজ ব্যাপক। আমরা নিজেরা অস্থায়ী হলেও স্থায়ী ব্লু ইকোনমি অথরিটির কাঠামো তৈরির কাজ করছি।

এদিকে সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে হলে আইনগত ক্ষমতাসহ একটি শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। পৃথক ‘সমুদ্র সম্পদ মন্ত্রণালয়’ দরকার বলেও মনে করেন অনেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জলসীমায় সাগরের তলদেশটাকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ অর্জিত হবে সমুদ্র অর্থনীতি থেকে।

জানা গেছে, দেশের স্থলভাগের প্রায় সমপরিমাণ সমুদ্রসীমায় এখন মূল্যবান সম্পদের ভান্ডার। ভারত ও মিয়ানমার থেকে অর্জিত সমুদ্রসীমায় ২৬টি ব্লক রয়েছে। এসব ব্লক ইজারা দিয়ে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া সম্ভব বলেও মনে করছেন অনেকে।

সমুদ্র অর্থনীতি থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কী কী সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশেষ করে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো খুঁজতে আটটি প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা চলছে। মৎস্যসম্পদ আহরণ থেকে শুরু করে সমুদ্রগর্ভে খনিজ ও অন্যান্য সম্পদ আহরণের সব বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ-সংক্রান্ত জাতিসংঘের সালিশি আদালতের রায়ের আগে বাংলাদেশে সমুদ্রসম্পদ গবেষণা নিয়ে কোনও উদ্যোগই ছিল না।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় শুধু মৎস্যসম্পদ থেকেই বছরে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। সামুদ্রিক মাছকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পও গড়ে তোলা সম্ভব। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাসের মতো খনিজ সম্পদ পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া সমুদ্রসীমায় চলাচল করা জাহাজ থেকেও বিপুল আয়ের সুযোগ রয়েছে।

তেল, গ্যাস, মূল্যবান বালু, ইউরেনিয়াম, মোনাজাইট, জিরকন, শামুক, ঝিনুক, মাছ, অক্টোপাস, হাঙর ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদ রয়েছে সাগরে। ৪৭৫ প্রজাতির মাছ ছাড়াও আছে ২০ জাতের কাঁকড়া, ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি ও ৩৬০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দেশে একটি সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু এটি আলোর মুখ দেখে ২০১৭ সালে।

এর আগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক রায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট থেকে সরকারের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ওশানোগ্রাফি বা সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ক বিভাগ খোলার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়েও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে জাতীয় সংসদে ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন পাস হয়। এর ভিত্তিতে ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে মিরপুরে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।

/এফএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম