১৫ টাকা দামের ৫শ’ মি.লি. একুয়াপিনা পানির বোতল ২০ টাকায় বিক্রি করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে রাজধানীর শুক্রাবাদের ফাস্ট ফুড রেস্তোরা ফ্রাই টাউনকে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার বুধবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে এই ফাস্টফুড রেস্তোরায় এসে জরিমানার অর্থ আদায় করেন। এসময় তার সঙ্গে শেরে বাংলা নগর থানার পুলিশ ছিল।
জানা গেছে, মোড়কজাত পণ্যের গায়ে লাগানো দামের চেয়ে বেশি রাখা আইনত অপরাধ। এ সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত পানির দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করত ফ্রাই টাউন ফাস্টফুডটি। গ্রাহকদের অনীহা থাকলেও পানির দামে বাড়তি অর্থ আদায়ে বিরত থাকেনি প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি গণমাধ্যমে কর্মরত এক সংবাদকর্মী লিখিত ভাবে ভোক্তা অধিদপ্তরে বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরপর ফ্রাই টাউন কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে ডাকা হলে তাদের কেউ সেখানে উপস্থিত হননি। পরে বুধবার প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার।
ফাহমিনা আক্তার জরিমানাকালে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ বিষয়ে এক সপ্তাহ আগে শুনানির দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু শুনানির দিন ফ্রাই টাউনের পক্ষে কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। তবুও মানবিক বিষয় বিবেচনা করে প্রথমবার মাত্র ১০ হাজার টাকা করা জরিমানা করা হল। এরপর এমন অভিযোগ গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি অভিযোগকারীকে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে অধিদফতরে গিয়ে জরিমানা থেকে প্রাপ্ত অংশটি নিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন ফাহমিনা আক্তার।
জানা গেছে, জাতীয় ভোক্তা অধিদফতর ক্রেতাদের সচেতন করতে দীর্ঘদিন ধরেই সচেতনতার কাজ করে যাচ্ছে। এ মাসে বাণিজ্যমেলায়ও একটি অভিযোগকেন্দ্র খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবুল হোসেন মিঞা বলেন, একটি সুসঙ্গত আইনের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কাজ করছে অধিদফতর। আমি বলবো, আমাদের ৮০ শতাংশ সফলতা এসে গেছে। অধিদফতরে সুযোগ্য লোকবল কাঠামো নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। এখন ভোক্তা সাধারণকে সচেতনতার সঙ্গে এ সুযোগ নিতে হবে।
জানা গেছে, গত মাসেও মোড়কজাত পণ্যের মূল্য থেকে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগে কয়েকটি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুডকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অভিযোগকারী পেয়ে থাকেন। অভিযোগকারীদের জরিমানার ২৫ শতাংশ দিয়ে দেয় অধিদফতর।
যেভাবে অভিযোগ করা যাবে: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী- ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা, ভেজাল দেওয়া, মোড়কে তথ্য না থাকা, মিথ্যা তথ্য দেওয়া, সেবায় প্রতারণা করা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করাসহ ১৭টি কর্মকাণ্ডকে অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। এসব অপরাধের শিকার হলে যে কোনও ভোক্তা আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। এ জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে লিখিত আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদনে অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা, বাবা-মায়ের নাম, ফোন/ফ্যাক্স/ই-মেইল নম্বর ও পেশা উল্লেখ করতে হবে। অভিযোগ পাঠানোর ঠিকানা- মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, ১, কাওরানবাজার (টিসিবি ভবন- অষ্টম তলা), ঢাকা। প্রত্যেক জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও একইভাবে আবেদন করা যাবে।
/এসটিএস/টিএন/








