রাজধানীর কল্যাণপুর পোড়াবস্তিতে উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। মিরপুর থানা পুলিশ ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদকাজ তদারকি করেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনটি বুলডোজার ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে দুইটি জলকামান বস্তির সামনে নেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনটি বুলডোজার দিয়েই স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলছিল। বস্তির ভেতর আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে। বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা জানান, উচ্ছেদ চলার সময় সন্ত্রাসী গোছের কিছু লোককে বস্তির মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন তারা।
উল্লেখ্য, পোড়াবস্তি উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক বস্তিটির উচ্ছেদ চান বলে অভিযোগ করেছেন বস্তিবাসী।
নগর বস্তিবাসীর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আব্দুস সালাম (শাহআলম) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৮৬ সালে পোড়া বস্তিটিতে মানুষ বসতি তৈরি করে। বর্তমানে সেখানে ৩৫ শ’ ছোটছোট ঘর আছে। নিম্ন ও খেটে খাওয়া ২০ হাজার মানুষ সেখানে বসবাস করেন। জায়গাটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং হাউজ বিল্ডিং রিচার্জ অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বস্তিটি উচ্ছেদের জন্য স্থানীয় এমপি চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নুরুল আলম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ডিএমপির মিরপুর জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) কায়ুমুজ্জামানের কাছে আসে। সেই চিঠি নিয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি ও এমপি উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। তবে এখানে আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ করা হবে বেআইনি।’
২০০৩ সালে উচ্চ আদালতে একটি মামলা করা হয়, যাতে বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ না করা হয়। এসময় উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উচ্ছেদ না করার জন্য স্থগতি আদেশ দেয়। ২০০৭ সালে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বস্তি উচ্ছেদ না করার জন্য পুনঃরায় আদেশ দেন আদালত। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য মঙ্গলবার পোড়াবস্তির এক নারীসহ ছয় বয়স্ক বাসিন্দাকে আলোচনার কথা বলে মিরপুর মডেল থানায় নিয়ে ৮ ঘণ্টা হাজতে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অপরাধ তারা ওই বস্তিতে বাস করেন। বস্তি উচ্ছেদের আগে যাতে তারা নিজেরাই সেখান থেকে সরে যান সেজন্য তাদের থানায় এনে বলে দেওয়া হয়।
/এআরআর/এফএস/








