স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের ‘ঘর গোছানো’ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, ‘পণ্যের উৎপাদনশীলতা ও বহুমুখীকরণ করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো সংস্কার করতে হবে।’
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব এসব কথা বলেন।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন সামনে রেখে ইআরএফ এই কর্মশালার আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ডব্লিউটিও’র ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। যাকে বলা হচ্ছে এমসি-১২। কর্মশালায় এমসি-১২-এ বাংলাদেশ কোন কোন বিষয় উত্থাপন করবে, কী ধরনের ফল আশা করছে, দরকষাকষির পদ্ধতি কী হবে, এসব আলোচনা হয়।
রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক কারিগরি অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান। ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালা সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।
বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘২০২৬ সালের পরও বাংলাদেশ এলডিসি সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আসন্ন ডব্লিউটিও সম্মেলনে উত্তরণের পরে ৬ থেকে ৯ বছর একই বাণিজ্য সুবিধা যেন অব্যাহত থাকে, সেই বিষয়ে এলডিসি দেশগুলো একমত হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এ বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসবে। যদি কোনও কারণে ঘোষণা না আসে, তাহলে বাংলাদেশ এই আলোচনা জিইয়ে রাখবে। অন্যদিকে, জিএসপি সুবিধা, ট্রিপস, মেধাস্বত্ব, মৎস্য খাতে ভর্তুকি নিয়ে বাংলাদেশ নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে টিকে থাকা নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়। বিশ্বের যেসব দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা করে পণ্য রফতানি করতে হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ ভালো করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ভারতের বাজারে রফতানিতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। এটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা। এরপরও বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট মেজারস, যেমন- জিএসপি, জিএসপি প্লাস, ট্রিপসের সুবিধাগুলো চাইবে। এসব সুবিধা না থাকলে বড় বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করা হবে।’
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘ইইউ জিএসপির নিয়মে যে পরিবর্তন আনছে, সেখানেও বাংলাদেশের জন্য অনেক ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে। ফলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সমস্যা হবে না। এছাড়া ট্রিপসের আওতায় ওষুধের মেধাস্বত্ব সুবিধা যাতে বাংলাদেশ পায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী রফতানি নীতিও এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই করা হচ্ছে।’
কারিগরি অধিবেশনে ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবারের ডব্লিউটিও’র মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অনেক দেশ বাংলাদেশের প্রস্তাবকে সমর্থন করছে, অথবা একই ধরনের প্রস্তাব দিচ্ছে। মোস্তফা আবিদ খান সমঝোতা ও দরকষাকষির পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।’









