X
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:৪৯

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নারী শিক্ষার প্রসার ও নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ববঙ্গের বাঙালি নারীর জীবনের দরজা খুলে দিয়েছিল। এখানে উচ্চশিক্ষা নিতে এসে কেবল পড়াশোনাতেই থেমে থাকেননি নারীরা। তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও জড়িত হয়েছেন।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করছি, বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে এতদ্বঞ্চলে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই পুষিয়ে দিতে পেরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে বাঙালি জাতিকে বহু অজানা ও নতুন পথ দেখিয়েছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে অধিকার ও স্বাধীকার অর্জন করতে হয়, কীভাবে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়, কীভাবে দেশ গড়তে ও পরিচালনা করতে হয়— তা উর্বর ও তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কে বিস্তরভাবে শিখিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাঙালি জাতি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতার সংগ্রামসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে সফল হতে পেরেছে। আর এসব আন্দোলন ও সংগ্রামের সূতিকাগার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’

তিনি জানান, ভারত বিভক্তির পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান অর্জন ও রাজনীতি চর্চার তীর্থ স্থান হিসেবে বেছে নেন। তাঁর পাকিস্তানবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের অভিযাত্রাও শুরু হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

এসব কারণেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রধান চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যাপিঠ। তারই প্রতিশোধ হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে এখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। আবার বাঙালির  কাছে পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৪ ডিসেম্বরেও এখানে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা, বলেন আনিসুল হক।

নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসামান্য অবদান। স্বাধীন বাংলাদেশেও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার ও স্বাধিকার অর্জন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষা এবং দেশ গঠন ও পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বিশ্বের আর কোনও বিশ্ববিদ্যালয় এতসব অবদান রাখতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। সে কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বে একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়।’

ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  সভায় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  প্রফেসর ড. সোনালী চক্রবর্তী ব্যানার্জি,  ডাকসুর সাবেক  সহ-সভাপতি   মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিনিয়র সাংবাদিক  ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বক্তৃতা করেন।

 

 

 

 

 

/ইউআই/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: পররাষ্ট্র সচিব
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
ইসি গঠনের বিলে কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়নি: আইনমন্ত্রী
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
একসপ্তাহে মারা যাওয়া ৭৯ জনের ৫১ জনই টিকা নেননি
নতুন খাদ্য মহাপরিচালক নিয়োগ
নতুন খাদ্য মহাপরিচালক নিয়োগ
© 2022 Bangla Tribune