ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার শাহেদ শফিক। বিশেষ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস (১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব) বিভাগে জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশু ক্যাটাগরিতে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। শাহেদ শফিক ছাড়াও আরও ২১ জন এই পুরস্কার পেয়েছেন।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই পুরস্কার অর্জনকারীদের নাম ঘোষণা করে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
শিশুদের বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার উৎকর্ষতাকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস। শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক এবং বৃহত্তর জনসাধারণের কাছ থেকে শিশুদের জন্য সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে এই অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করে ইউনিসেফ।
জলবায়ু ও পরিবেশ এবং উপকূল সাংবাদিকতাসহ সেবা খাত নিয়ে কাজ করেন শাহেদ শফিক। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বাংলা ট্রিবিউন-এ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘শেখ হাসিনা জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয় কেন্দ্র’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়- ‘ডিএসসিসির জলবায়ু আশ্রয়কেন্দ্রে নেই উদ্বাস্তু, আছে কাউন্সিলরের কার্যালয়!’ শিরোনামে।
এই প্রতিবেদন চলতি বছর ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশু’ বিশেষ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পায়। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ পাবেন তিনি।
এর আগে শাহেদ শফিক পাঁচবার ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০১৬’ ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ-২০১৬’, ‘বাংলা ট্রিবিউন-ওমর ফারুক বর্ষসেরা পুরস্কার-২০১৯, গ্রিনম্যান অ্যাওয়ার্ড-২০২১ লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সাধারণ সম্পাদক।
এ বছর যেসব ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো:
মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস (১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব)
শিশু অধিকারের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে সাংবাদিকতায় এমন প্রতিবেদনের জন্য:
১. টেক্সট (প্রিন্ট/অনলাইন) প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকা ট্রিবিউন-এর কহিনুর খৈয়াম। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন এনটিভি’র মো. খায়রুল বাশার আশিক। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের মো. বনি আমিন এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর উম্মে মারজানা জুই।
২. ফটোগ্রাফি (প্রিন্ট/অনলাইন) ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক অধিকারের ইমরান হোসেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন প্রথম আলোর দীপু মালাকার। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন প্রথম আলোর মো. সাজিদ হোসেন। এ ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের প্রবীর দাস।
৩. ভিডিও (টিভি/অনলাইন) ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন একাত্তর টিভির নাদিয়া শারমিন, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সময় টিভির মারজিয়া হাশমি মম এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জিটিভি’র ইসমাইল হোসেন জুয়েল।
শিশুদের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস (১৮ বছরের নিচে)
শিশু অধিকারের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে সাংবাদিকতায় এমন প্রতিবেদনের জন্য:
৪. টেক্সট (প্রিন্ট/অনলাইন) ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের রাফসান নিঝুম, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন প্রথম আলোর মো. সাজ্জাদুর রহমান এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আজকের গোপালগঞ্জের পিয়াল সাহা।
৫. ভিডিও (টিভি/অনলাইন) প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন এটিএন বাংলার আফরিন আক্তার, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন এটিএন বাংলার ফাহমিদা ফাইজা স্বর্গ এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন একই টেলিভিশনের তাহমিনা ফ্লোরা।
বিশেষ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস (১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব)
শিশু অধিকারের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে সাংবাদিকতায় এমন টেক্সটভিত্তিক প্রতিবেদনের জন্য:
শিশুদের ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব ক্যাটাগরিতে প্রথম আলো’র মো. সামসুর রহমান; শিশুদের জন গণবিনিয়োগ ক্যাটাগরিতে দ্য ডেইলি স্টারের নিলিমা জাহান; ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুরা’ ক্যাটাগরিতে ঢাকা পোস্ট-এর আদনান রহমান; শিশুবিয়ের অবসান ক্যাটাগরিতে ঢাকা পোস্ট-এর জসিম উদ্দিন; জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশুরা ক্যাটাগরিতে বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার শাহেদ শফিক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণে এবং শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির সম্মুখীন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস শিশু সাংবাদিকদের প্রতিবেদনকেও স্বীকৃতি দেয়। যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিশুদের জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে এমন সব বিষয়ে শিশুদের সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়াটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।’









