
মাঘের কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনজীবন। বিশেষ করে চর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা চরম শোচনীয়। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।
উত্তরের কোথাও সূর্য দেখা যাচ্ছে খুব অল্প সময়ের জন্য। কুয়াশার পাশাপাশি তীব্র শৈত্য প্রবাহ হচ্ছে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বেরোচ্ছে না।
লালমনিরহাটে শুক্রবার রাত থেকে শীতের দাপটে বিপর্যস্ত জীবনযাত্রা। শনিবার সারাদিন সূর্যের দেখা মিলেনি। এ জেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার কয়েক হাজার শীতার্ত অসহায় গরিব মানুষ মাঘের হাড় কাঁপানো কনকনে শীতের কারণে ঘর থেকে বের হতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
জেলার বিভিন্ন বাজারগুলোয় তেমন দোকান-পাট খুলেনি। লোকজনের চলাচলও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। তারপরও পেটের টানে কিছু শ্রমিক ঘর থেকে বেরিয়েছেন। শীতের পোশাক না থাকায় নিম্ন আয়েরঅনেকেই পড়েছেন বিপাকে।

জেলার কোথাও সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু কিছু এলাকায় শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
তিস্তা পাড়ের দিনমজুর আফজাল হোসেন বলেন, ‘চরে আমরা ভীষণ কষ্টে আছি। কেউ আমাদের একটা কম্বল দিচ্ছে না। আমরা কয়েক হাজার মানুষ কঠিন শীতের মধ্যে আছি।’
লালমনিরহাট পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু বলেন, পৌরসভায় অনেক শীতার্ত মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের বিত্তবান লোকজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। আমরা বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও সামাজিক সংগঠনের কর্ণধারদের সহযোগিতা কামনা করছি। অনেকেই শীতের কাপড় দিচ্ছেন। তবে আরও বেশি শীতের কাপড় দরকার বলে তিনি জানান।

এদিকে গাইবান্ধায় হিমেল হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে গত তিন দিনে শীত জেঁকে বসেছে গাইবান্ধায়। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয় এই বৃষ্টি। সূর্যের দেখা মেলেনি রবিবার সকাল পর্যন্ত। তীব্র শীতে জুবুথবু হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে গরিব মানুষের। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষেরা। তীব্র শীতে শুক্রবার দিনমজুরেরা ফসলের মাঠে কাজে যেতে পারেননি। শহরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হননি। বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই।
জেলার সাদুল্লাপুরের হবিবুল্লাপুর গ্রামের সুফিয়া বেগম বলেন, ‘না খায়া থাকা যায় বাহে, কিনতো জারের (শীতের) কষটোত ঘুম ধরে না। গরম কাপড় নাই। তাই শীতের জন্নে আচকে কামোত যাবার পাই নাই। একনা কম্বলের জন্নে মেম্বরের (ইউপি সদস্য) বাড়িত গেচুনো। তামরা কয় চেয়ারম্যানের কাচে যাও।’
জেলা সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, গাইবান্ধা হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিন থেকে দিনে গড়ে ২০ থেকে ২২ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে শিশুই বেশি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বছর জেলার সাত উপজেলায় ৩১ হাজার ৫৭০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ১০ হাজার কম্বল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
/আরএ/এসটি/








