X
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

করোনার নতুন ঢেউয়ে বাংলাদেশ, রোগী বেড়েছে ২০০ শতাংশ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:৫৯

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে করোনার পুরো চিত্র পাল্টে গেছে। এই এক সপ্তাহে দেশে একের পর এক করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত জিনোম সিকোয়েন্স করে ৩৩ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩০ জন ঢাকার এবং ৩ জন যশোরের। বিগত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে শনাক্ত বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগেও শনাক্তের হার এক অঙ্কের ঘরে থাকলেও আজ তা ১২ শতাংশ অতিক্রম করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, এভাবে রোগী বাড়লে সামাল দেওয়া কঠিন হবে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১১ দফা নির্দেশনায় এই সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮ দিনে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।  ৬ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৮৬। ৮ দিনের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ০৩। সর্বশেষ গত বছর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের সময় আগস্ট –সেপ্টেম্বর মাসে এরকম রোগী পাওয়া গেছে। তবে তখনকার তুলনায় এখন মৃত্যুর হার কম হলেও সামনের দিনগুলোতে তা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সাত দিনে মৃত্যু এক অঙ্কের ঘরে থাকলেও ১৩ জানুয়ারি ১২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্তের কথা প্রথম জানা যায় ১০ ডিসেম্বর। জিম্বাবুয়ে ফেরত দুই নারী ক্রিকেটারের নমুনায় তা শনাক্ত হয়। এরপর ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর আরও ৫ জনের নমুনায় ওমিক্রন শনাক্ত হয়। তারপর ৩১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৬ জনের নমুনায় ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার খবর জানা যায়। শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ নারী এবং ৩০ জনই ঢাকায় অবস্থান করছেন। সর্বশেষ বুধবার ঢাকার বাইরে একমাত্র স্থান হিসেবে যশোরে ৩ জনের নমুনায় ওমিক্রিন শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, নতুন করে আক্রান্তদের চিকিৎসায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আরও ২০ হাজার শয্যা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক হাসপাতালে শয্যা খালি থাকলেও আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। সব হাসপাতাল রোগীতে ভরে যেতে শুরু করবে। ১০-১৫ দিন আগেও শনাক্ত রোগী দিনে দুই থেকে আড়াইশ’ জন ছিল, বর্তমানে সেটি তিন হাজারের কাছাকাছি।

তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগেও হাসপাতালে গড়ে আড়াইশ ‘র মতো রোগী ছিল, যা এখন হাজারে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে। চিকিৎসকদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে। এটা শুরু হলে স্বাস্থ্য খাতকে বেকায়দায় পড়তে হবে।

সরকারের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, মনে হচ্ছে নতুন ঢেউ এসে গেছে। আমাদের সংক্রমণের হার বাড়ছেই। সেটার ঢেউ তো চলেই আসছে। একমাত্র স্বস্তির জায়গা হলো, সংক্রমণের হার যতই হোক এই মুহূর্তে মৃত্যুর হার কম। দুই সপ্তাহ পরে কী হবে সেটা বলা মুশকিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত ১১ দফার মৌলিক সমস্যা হচ্ছে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সেই সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। শুধু বললেই হবে না যে মাস্ক পরতে হবে। সেটা পরাতে বাধ্য করতে হবে। লোকজনকে বলবে মাস্ক পরানোর কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। তাদের সম্পৃক্ততার কথা তো সেখানে নেই। এটা তদারকি করবে কে সেটি বলা হয়নি। বাস্তবায়ন তো একার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না। অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার দায়িত্ব আছে। তাদের মধ্যে সমন্বয় দরকার। লকডাউন দিয়ে যে লাভ হয় না তা আমরা আগেই দেখেছি। সুতরাং মাস্ক পরার ওপর জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি পালন না করলে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না।

/এমআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
আবারও টিকা কেনার খরচ সংসদে জানাতে চাইলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আবারও টিকা কেনার খরচ সংসদে জানাতে চাইলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শনাক্ত একদিনে সাড়ে ১০ হাজার ছাড়ালো
শনাক্ত একদিনে সাড়ে ১০ হাজার ছাড়ালো
দেশে এলো জনসনের এক ডোজের টিকা
দেশে এলো জনসনের এক ডোজের টিকা
একদিনে সাড়ে ৯ হাজার শনাক্ত, মৃত্যু ১২
একদিনে সাড়ে ৯ হাজার শনাক্ত, মৃত্যু ১২
ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি

ঢাকাকে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২:০১

ইউক্রেন সীমান্তে সেনা সমাবেশ করছে রাশিয়া। শুধু তা-ই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ বেলারুশেও রুশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে প্রয়োজনে ওই দেশ থেকেও আক্রমণ করা যায়। পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট একসঙ্গে কাজ করছে। এরকম যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে ওয়াশিংটন ও মস্কো। ইতোমধ্যে আমেরিকা তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়ে ডিমারশে লেটার দিয়েছে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ম্যানটিটস্কি পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দেখা করে তার দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘দুপক্ষই তাদের অবস্থান জানিয়েছে।’

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কী অবস্থান নেবে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা যেকোনও সংঘাতের বিরোধী। আমরা মনে করি আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। আমরা আশা করি সব পক্ষ সংঘাত পরিহার করে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলটিতে রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আগেও স্থিতিশীল ছিল না, এখনও নেই। নতুন স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিশ্বকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কম কিন্তু বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করার জন্য উভয়পক্ষ অনুরোধ করবে।

তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি আলোচিত হবে না। কারণ, আমেরিকা ও রাশিয়া উভয়ই ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। সেক্ষেত্রে সাধারণ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা বেশি। যার সদস্য বাংলাদেশ। আবার জেনেভাতে মানবাধিকার কাউন্সিলে ইউক্রেন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করতে পারে। সেখানেও ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট কাউন্সিলে সদস্য হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে বাংলাদেশের কী সমস্যা হতে পারে জানতে চাইলে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ান প্রযুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এর কাজ অনেকটা শেষ। এক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়বে সেটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে বলা মুশকিল।

/এসএসজেড/এমআর/এমওএফ/
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
আবারও টিকা কেনার খরচ সংসদে জানাতে চাইলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আবারও টিকা কেনার খরচ সংসদে জানাতে চাইলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শনাক্ত একদিনে সাড়ে ১০ হাজার ছাড়ালো
শনাক্ত একদিনে সাড়ে ১০ হাজার ছাড়ালো
দেশে এলো জনসনের এক ডোজের টিকা
দেশে এলো জনসনের এক ডোজের টিকা
একদিনে সাড়ে ৯ হাজার শনাক্ত, মৃত্যু ১২
একদিনে সাড়ে ৯ হাজার শনাক্ত, মৃত্যু ১২
একদিনে সাড়ে ৮ হাজার রোগী, শনাক্তের হার ২৪ শতাংশ
একদিনে সাড়ে ৮ হাজার রোগী, শনাক্তের হার ২৪ শতাংশ
© 2022 Bangla Tribune