X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

লবিস্ট ফার্মের অর্থ বিএনপি কোথায় পেলো: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ২২:২১

বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বলে মন্তব্য করে ওই অর্থ কোথা থেকে এসেছে তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস এবং মিথ্যা অপবাদ আর অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিদেশি ফার্মকে এই কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করলো, এই অর্থ কীভাবে বিদেশে গেলো? এটা কোথা থেকে এলো তার জবাব তাদের দিতে হবে। এর ব্যাখ্যা তাদের দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা এবং ১৬তম অধিবেশনের সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কত লাখ ডলার এই বিএনপি খরচ করেছে। এই অর্থ কোথা থেকে তারা পেলো? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। বিএনপি এই বৈদেশিক মুদ্রা কোথা থেকে পেয়েছে। কীভাবে খরচ করেছে? কীভাবে এই লবিস্ট তারা রেখেছে? লবিস্ট কীসের জন্য? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য। নির্বাচন বানচাল করার জন্য। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। জঙ্গিদের রক্ষা করার জন্য। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাধা দেওয়ার জন্য। কোনও ভালো কাজের জন্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে লবিস্ট লাগিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। সেখানে কোটি কোটি টাকা দেওয়া-এই তো বিএনপির চরিত্র। নির্বাচন সামনে রেখে লবিস্ট নিয়োগ দিয়ে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই টাকার পাই পাই হিসাব আমরা আদায় করতে চাই। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত কেন? 

সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, হ্যাঁ, সবসময় পিআর ফার্ম নেওয়া হয়। যাতে বিনিয়োগ বাড়ে। উৎপাদন বাড়ে। আমরা যেন বেশি রফতানি করতে পারি। দেশের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য করা হয়, কিন্তু বিএনপির কাজটি কী ছিল?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  আমাদের র‌্যাবের কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাঙ্কশন দিয়েছে। যদি বলি কাদের ওপর? এখন আমাদের বর্তমান আইজিপি, তখন র‌্যাবের ডিজি ছিলেন। হোলি আর্টিজানে যখন সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে, মানুষ হত্যা করে, নৃশংস দৃশ্য। পুলিশের দুজন অফিসার সেখানে ছুটে গেলে তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। এরপর আমরা পদক্ষেপ নিই। সেই সময় আমেরিকার যিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি টুইট করেছিলেন, হলি আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলার বাংলাদেশ একা সমাধান করতে পারবে না। রোজার দিন ছিল। সারা রাত আমরা কাজ করেছি। সাহরির সময় পর্যন্ত আমি বৈঠক করি। সবাইকে নিয়ে মিটিং করি। কী করা হবে, কীভাবে অপারেশন চালানো হবে। পরদিন সকাল নয়টার মধ্যে জিম্মিদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সফলতার সঙ্গে তাদের আক্রমণ মোকাবিলা করি। এরপরই আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর টুইট সরিয়ে ফেলেন। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমন করেছি। যেটা বিএনপির সৃষ্টি। যাদের তারা (যুক্তরাষ্ট্র) স্যাঙ্কশন দিলো তাদের অধিকাংশ এই সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিল। তাহলে এরা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো? সব থেকে ভালো ভালো অফিসার যারা। আমি আমেরিকাকে দোষ দেই না। ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবো?

অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের তখনকার সংসদ সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করেছিল। সেই হত্যার সঙ্গেও বিএনপি জড়িত সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এর বিচারকাজটিতে বারবার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার থেকে। যখনই বিচারের কাজটি শুরু হয় অমনি তার পরিবার একটা বাধা দিয়ে রাখে। কেন ঠিক জানি না।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা রিফিউজি হিসেবে ৬ বছর বাস করেছি দুই বোন। নাম পরিচয়টাও ব্যবহার করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল সুযোগ পেলে দেশকে গড়ে তুলবো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে দেশে ফিরি। অনেক বাধাবিপত্তি, অনেক অপপ্রচার শুনতে হয়েছে। লক্ষ্য স্থির করে চলেছি বলে তা অর্জন করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, করোনায় আমেরিকার আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে যাইনি। বরং দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বিশ্বাস করি আরও কমাতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত অর্থনীতির মধ্যেও আমরা বিনা পয়সায় করোনার পরীক্ষা করাচ্ছি। প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা লাগে এক একটি করোনার পরীক্ষার জন্য। পাশাপাশি বিনা পয়সায় আমরা টিকাও দিচ্ছি। দেশবাসীকে আহ্বান জানাবো, যারা ভ্যাকসিন নেননি, ভ্যাকসিন নেবেন। কোনও অসুবিধা হবে না। আমরা ভ্যাকসিনের জন্য আলাদা বাজেট রেখেছি। ভ্যাকসিনের অভাব হবে না।

সরকারের এখন ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে বোরো মৌসুম আসছে। আমাদের খাদ্যের অভাব হবে না। তবে কিছু কিছু জায়গায় দাম বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের কিছু করা হয়। সেটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। কিছু কিছু সিন্ডিকেট তৈরি হয়। মাঝে মাঝে চেষ্টা করে। আমাদের বিরোধী দল তো কোনও উন্নতি দেখে না।

/ইএইচএস/এমআর/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
টাকা নিয়ে রিয়াল-পিএসজির সঙ্গে কথাই হয়নি: এমবাপ্পে
টাকা নিয়ে রিয়াল-পিএসজির সঙ্গে কথাই হয়নি: এমবাপ্পে
প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতালের লাইসেন্স নেই, ডাক্তারের ডিগ্রি নেই
প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতালের লাইসেন্স নেই, ডাক্তারের ডিগ্রি নেই
যৌথভাবে আন্দোলন শুরুর আশা বিএনপি-নাগরিক ঐক্যের
মান্নার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠকযৌথভাবে আন্দোলন শুরুর আশা বিএনপি-নাগরিক ঐক্যের
সম্পর্ক উষ্ণ করতে ইসরায়েল যাচ্ছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সম্পর্ক উষ্ণ করতে ইসরায়েল যাচ্ছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
২৫ জুন খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু
২৫ জুন খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু