করোনাভাইরাস মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে কেনা ৩৫০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুরক্ষা সামগ্রীর টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। রবিবার (৩ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, মুহিবুর রহমান মানিক, মনসুর রহমান, আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, আমিরুল আলম মিলন অংশ নেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, করোনার শুরুতে জরুরি ভিত্তিতে কেনাকাটা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারদের সেই টাকা পরিশোধ হয়নি। এখন বলছে, ওই সময় নিয়ম না মেনে কেনাকাটা হয়েছে। কিন্তু যারা সরবরাহকারী তারা তো পণ্য দিয়েছে। তাদের তো দোষ নেই। আমরা বলেছি আমলাতান্ত্রিকতা না করে টাকা দিয়ে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় এখানে আপত্তি দিচ্ছে। আমরা বলেছি, তাদের কাছে একটা চিঠি পাঠাতে। তিনি যেভাবে বলবেন টাকা সেভাবে পরিশোধ করতে হবে।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম তিন মাসে (২০২০ সালের মার্চ-মে) সরকারের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) ৩৫৪ কোটি টাকার সুরক্ষা সামগ্রী কেনা হয়। সে সময় ৫৭ প্যাকেজে এসব সুরক্ষা, করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনা হয়।
এরমধ্যে ৩৪৩ কোটি টাকা প্রায় এক বছর পর গত বছরের ১২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় সিএমএসডিকে সরবরাহকারীদের দেওয়ার জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সঠিক কোনও নির্দেশনা না দেওয়ায় সিএমএসডি সেই অর্থ সরবরাহকারীদের দিতে পারছে না।
সিএমএসডির সাবেক পরিচালক প্রয়াত মোহম্মদ শহীদুল্লাহর সময় হওয়া এসব কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে সে সময়ের সব ধরনের সরবরাহের বিল আটকে দেন তৎকালীন পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। তার মূল অভিযোগ, এসব কেনাকাটায় বিধিবিধান ঠিকমতো অনুসরণ করা হয়নি।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে বিল পরিশোধের ব্যাপারে সিএমএসডিকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সিএমএসডির পক্ষ থেকে গত বছর তিনটি চিঠি দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি এবং ২ ও ২৩ মে দেওয়া চিঠিতে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ, ব্যাখ্যা এবং সমাধানে নির্দেশনা চায় সিএমএসডি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনও চিঠিরই উত্তর দেয়নি মন্ত্রণালয়।
পরে এ নিয়ে তদন্তও শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব ঠিকাদাররা সংসদীয় কমিটির কাছেও তাদের দাবির কথা জানান। এর আগে সংসদীয় কমিটি বিষয়টি একবার আলোচনাও করে। তবে তা কোনও অগ্রগতি হয়নি।
বৈঠকে শেষে শেখ সেলিম বলেন, ওই সময় যদি অনিয়ম হয়, সেটা তো সরবরাহকারীরা করেনি। তাদের টাকা কেন আটকে রাখবে? আমরা সেটাই বলেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এই টাকা দিয়ে দিতে চান। অনিয়ম যদি হয়ে থাকে সেটা সিএমএসডি করেছে। সরবরাহকারীরা করেনি। তাহলে তাদের টাকা আটকে রাখবে কেন?
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বৈঠকে জানায়, তদন্ত কাজ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে গোপালগঞ্জে অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগসের প্ল্যান্টে টিকা উৎপাদন ও বোতলজাত করার প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগ্রহী বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, এডিবি পরিদর্শন করে এসেছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা মিটে গেছে। আমরা বলেছি দ্রুত যাতে বোতলজাত শুরু করতে পারি সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন যদি কনসালটেন্ট নিয়োগ করে, টেন্ডার করে শুরু করে, তাহলে আরও দেরি হবে। আমরা বলেছি দ্রুত করার জন্য, কোনও প্রক্রিয়া থাকলে সেটা অনুসরণ করতে হবে।









