সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত ‘সরকারি শিশু পরিবার (১৮টি) এবং ছোটমনি নিবাস (একটি) নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ’ প্রকল্প সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে নেওয়া প্রকল্পটি ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। অবশেষে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভায় প্রকল্পটির মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে সংশোধনের প্রস্তাবসহ উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন করা হয়। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেছে, মুলত চার কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- গণপূর্ত অধিদফতরের ২০১৮ ও বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের ২০১৯ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলনের ফলে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়ানো, নির্বাহক সংস্থা হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতরের পরিবর্তে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডকে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি, কতিপয় অঙ্গের সংযোজন ও বিয়োজন এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ৩ বছর বাড়ানো।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সমাজসেবা অধিদফতর। প্রকল্প বাস্তবায়নে এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৭১ লাখ ৯১ হাজার টাকতা। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বাড়িয়ে ৩৮৫ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। পুরো ব্যয় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে (জিওবি) জোগান দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, সংশোধিত (প্রস্তাবিত) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ১৮টি জেলার ১৯টি উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এসব সরকারি শিশু পরিবার নির্মাণ করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতিম ও বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৮টি সরকারি শিশু পরিবার এবং একটি ছোটমনি নিবাস নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ আবাসন ও জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও শিশুদের পরিচর্যা, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের আওতায় ৬৩ হাজার ৬৬৪ দশমিক ১৭ বর্গমিটার আয়তনের অনাবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে ব্যবহারের জন্য ২৮৮টি যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম, ১৩ হাজার ৫০৫টি বিছানাপত্র, ১৩ হাজার ৮০২টি আসবাবপত্র, আউটসোর্সিং সেবা ও ২টি মোটরযান কেনা হবে।
সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পটি চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপিতে ৬০ কোটি ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রকল্পটি সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জেন্ডার ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও শিক্ষাসহ সকল অপরিহার্য সেবাগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের পূর্ণ বিকাশ ও অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যার সঙ্গে প্রকল্পটি সঙ্গতিপূর্ণ।
একনেকের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের আগে পরিকল্পনা কমিশন তার মতামতে বলেছে— প্রকল্পটির মাধ্যমে শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাসের এতিম ও বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশুদের লালন-পালন, ভরণপোষণ এবং তাদের অধিকার সুরক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা হবে। এ কারণে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার (১৮টি) এবং ছোটমনি নিবাস (একটি) নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি একনেক-এ অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শত শত এতিম ও পিতা-মাতার স্নেহবঞ্চিত শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত হবে। এসব সরকারি শিশু পরিবার এবং একটি ছোটমনি নিবাস নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ আবাসন ও জীবনমান বাড়বে। শিশুদের পরিচর্যা, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।









