রবিবার দুপুর ১২টা। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান পুরোপুরি জমজমাট। গুলিস্তান চত্বর, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গোলাপশাহ মাজার মোড়, ফ্লাইওভারের প্রবেশ-নির্গমন পথ, গুলিস্তান পার্ক সড়ক, জিরো পয়েন্ট- সবখানে যানজট লেগে আছে। চারদিকে যানবাহনের বিকট হর্ন বাজছে। সড়কের একধার চলে গেছে হকারদের দখলে। ফুটপাত দখল হয়েছে আরও আগে। পথচারীরা সড়কের মাঝখান দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছে।
এমনই সময় একদল পুলিশ গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে অবস্থান নিল। গুলিস্তান কমপ্লেক্সের সামনে এসে দাঁড়াল গাড়ি টানার র্যাকার। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও রাজউক-গুলিস্তান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোকে দ্রুত সরিয়ে দিলো পুলিশ। সময় যত গড়াচ্ছে গুলিস্তান চত্বর তত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
১২টা দশ মিনিটে গুলিস্তান কমপ্লেক্সের সামনে এলেন গুলিস্তান পুলিশ ফাঁড়ির দুই ছোট দারোগা (এএসআই) মমিনুল ও হেলাল। দুজনই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে গুলিস্তান চত্বরের ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকারদের সরিয়ে দিতে থাকলেন। সবশেষে দাবড় দিলেন আন্ডারপাসের দেয়াল ঘেষে বসা পুরনো নোট ব্যবসায়ীদের। হকাররা যখন দেখলো পুলিশ খুব কড়া মেজাজে, তাই দ্বিতীয়বার বসার সাহস করশো না। তবে তাদের চৌকিগুলো পড়ে ছিল যথাস্থানে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন যেখানে বারবার বলেও গুলিস্তানকে হকারমুক্ত করতে পারলেন না, সেখানে পুলিশের এই আকস্মিক গণমুখী আচরণ এবং বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউকে হকারমুক্ত করার নেপথ্য কারণ অনেকের কাছেই রহস্য হয়ে দেখা দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পেতে এগিয়ে যান বাংলা ট্রিবিউনের এ প্রতিবেদক।
গুলিস্তান চত্বরকে হঠাৎ যানজট ও হকারমুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে এএসআই হেলাল বললেন, কিছুক্ষণের মধ্যে রাষ্ট্রপতি যাবেন, তাই রাস্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি যতক্ষণ না যাবেন, ততক্ষণ রাস্তা ও ফুটপাতে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না। তিনি ফেরার সময়ও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি তার বাসভবন থেকে যেদিন বাইরে আসেন সেদিন এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
শুধু রাষ্ট্রপতির জন্য রাস্তা যানজট ও হকারমুক্ত থাকবে, আর সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তা থাকবে যানজটপূর্ণ আর হকারদের দখলে- এটা কেমন কথা? এ প্রশ্ন করা হলে এএসআই হেলাল হকার দাবড়াতে চলে যান। আর এএসআই মমিনুল বলেন, ভাই আমরা এখন খুবই ব্যস্ত।
এদিকে পুলিশের দাবড়ানিতে রাস্তায় বসতে না পেরে পুরনো নোটের হকাররা টাকার বান্ডিল হাতে নিয়ে ব্যবসা করছিলেন। কেউ পুরনো নোট নিয়ে গেলে হাঁটতে হাঁটতে বদল করে দিচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক হকার বলেন, রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে আমাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক কোনও অনুষ্ঠান বা খেলা হলেও পুলিশ আমাদের রাস্তায় বসতে দেয় না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি চলে গেলে দেখবেন আবারও আমরা ফুটপাতে বসে গেছি।
/ওএফ /এএইচ/








