লবণ চাষে ফিরে এসেছে সোনালী দিন। লবণ আমদানি বন্ধ হওয়ায় কক্সবাজারে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম আকাশচুম্বি। বর্তমানে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকায়। ফলে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে লবণ উৎপাদনে নেমে পড়েছেন চাষিরা। এ বছর রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদনে আশাবাদী তারা।
দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকারী অঞ্চল কক্সবাজার। এ জেলার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায় লবণ চাষযোগ্য জমি রয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার একর। চলতি মৌসুমে প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ শুরু হয়েছে পুরোদমে। লবণের মূল্য বেশি হওয়ায় দেড় লক্ষাধিক লবণ চাষি মাঠে নেমেছেন।
মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা এলাকার লবণশ্রমিক আবুল কালাম, ফয়েজুর রহমান ও ফরিদ আলম জানান, গত বছর প্রতি মণ লবণ ১৭০ টাকা বিক্রি হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর মাঠপর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকা দামে। সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় লবণের মূল্য ভালই পাওয়া যাচ্ছে।
শ্রমিকরা আরও জানান, খুচরা বাজারের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে লবণের মূল্যের ব্যবধান কমে যাওয়ায় ও লবণ আমদানি বন্ধ থাকায় এর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হয়েছে। একইসঙ্গে মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ব কমে যাওয়ায় লবণ চাষে ফিরে এসেছে সোনালী দিন।
কক্সবাজার বিসিক সূত্র জানায়, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ৫৫ হাজার ৬৩৭ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ৬২ হাজার ৭১৮ একর জমিতে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ১৫১ একর জমিতে ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯শ’ মেট্রিক টন, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ৫৯ হাজার ৯৬০ হাজার একর জমিতে ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ৫১ হাজার ৯৭০ একর জমিতে ১২ লাখ ৮২ হাজার ১শ’ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ৭০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ শুরু হয়েছে পুরোদমে। এতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় ৮ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন বেশি। অবশ্য চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে বড় মহেশখালীর নতুন বাজার এলাকার লবণ ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল হক নাহিদ জানান, কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় লবণ উৎপাদনকারী অঞ্চল মহেশখালী। লবণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে উঠেছে। এজন্য ব্যবসায়ী ও চাষিদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কক্সবাজার লবণচাষি পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ বলেন, বর্তমানে লবণের যে মূল্য রয়েছে তা যদি বজায় থাকে তাহলে দেশের প্রায় দেড় লাখ লবণচাষি সপরিবারে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন। এছাড়া কক্সবাজারে উৎপাদিত লবণ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। এজন্য দ্রুত লবণ বোর্ড গঠনের দাবি জানাই।
কক্সবাজার বিসিক’র উপ-ব্যবস্থাপক মো. আবসার উদ্দিন বলেন, এ বছর লবণের দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে মাঠে নেমেছে। গত বছর ৫২ হাজার একর জমিতে লবণের চাষ হলেও চলতি বছর ৭০ হাজার জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। চলতি বছরে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৭ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে লবণের চাহিদা পূরণ করতে পারবো।
মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লবণচাষিদের প্রতি মমতা দেখিয়ে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। দেশে যাতে লবণের ঘাটতি না হয় সেদিকে চাষিদের খেয়াল রাখতে হবে।
/বিটি/এইচকে/








