প্রতিদিনের মতো গত পয়লা ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে বাংলাদেশ মিশনের প্রেস উইংয়ের পার্সোনাল অফিসার জাহাঙ্গির হোসেন সন্ধ্যা ৬টার পরে অফিস থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। উদ্দেশ্য ছিল বড় মেয়েকে কোচিং থেকে তুলে নিয়ে বাসায় যাবেন। কিন্তু পথের মধ্যে কয়েকজন ‘সিকিউরিটি’ পরিচয়ধারী লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়।
পাকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সোহরাব হোসেনকে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছেন জাহাঙ্গির।
রিপোর্টে জাহাঙ্গির হোসেন জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তার মোবাইলে ফোন করে বাংলাদেশের ভিসা সম্পর্কে জানতে চান এবং ভিসা কাউন্টার কখন খোলে তাও জানতে চান। এ সময় জাহাঙ্গির তার কাছে জানতে চান, তিনি সাংবাদিক কি না।
ওই ব্যক্তি জানান, তিনি সাংবাদিক নন। এরপর তিনি জাহাঙ্গিরের অবস্থান জানতে চান।
জাহাঙ্গির হোসেন ঘটনাটি স্বাভাবিক ধরে নিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে মেয়েকে কোচিং থেকে আনতে যান। পথে একটি প্রাইভেট গাড়ি তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে দাঁড়ালে তিনি থামতে বাধ্য হন। ওই গাড়ি থেকে নেমে তিন-চারজন তার পরিচয়পত্র দেখতে চান। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের সাদা পোশাকধারী সিকিউরিটির লোক হিসাবে পরিচয় দেন।
হোসেনের পরিচয়পত্র দেখে তারা সঙ্গে সঙ্গে বলেন, এ পরিচয়পত্র একজন আফগান ব্যবহার করে। সনাক্ত করার জন্য জাহাঙ্গিরকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। কিন্তু তিনি যেতে না চাইলে তারা জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে মাথায় বড় একটি কালো টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ গাড়ি চলার পর এক জায়গায় গাড়ি থামে। এরপর দূতাবাসে তার পদ ও তার কাউন্সিলরের নাম জানতে চান তারা।
তথ্য দেওয়ার আনুমানিক দুই ঘণ্টা পরে তারা জাহাঙ্গির হোসেনকে জানান, তার সবকিছু ঠিক আছে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এরপর তারা জাহাঙ্গিরের হাতকড়া খুলে দেয় এবং আবার গাড়ি চলতে শুরু করে।
পাকিস্তান সময় রাত ১২টার পরে তারা জাহাঙ্গিরকে মোটরসাইকেল, মোবাইল, আইডি কার্ড বুঝিয়ে দিয়ে ছেড়ে দেয়। আনুমানিক রাত একটার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন।
/এসএসজেড/এজে/আপ-এআর/








