সমুদ্র থেকে পরমাণু: সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

রঞ্জন বসু, দিল্লি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২২:৩২আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২২:৩২

বাংলাদেশ–ভারতট্রেন-বাস-বিদ্যুৎ কিংবা নদীর পানি-ভাগাভাগির গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার পরিসর প্রবেশ করল এক নতুন আবর্তে। আর তার নাম বঙ্গোপসাগর। সঙ্গে অবশ্য থাকছে পরমাণু বিদ্যুৎ।
বঙ্গোপসাগরের সম্পদকে যৌথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজে লাগাতে দুই দেশেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘মেরিটাইম টাস্ক ফোর্স’। মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ঢাকায় এ টাস্ক ফোর্সের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মুহম্মদ শহীদুল হক।
সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশকে সহায়তার যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারত প্রতিবেশী দেশের ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের’ ব্যাপারেও কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবকে জানানো হয়েছে, পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ যাতে প্রশিক্ষিত লোকবল গড়ে তুলতে পারে, সে জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করবে ভারত।
বস্তুত পররাষ্ট্রসচিবের দিল্লি সফরে নতুন অগ্রগতি বলতে গেলে এই দুটোকেই বিশেষ করে বলতে হবে। কারণ তিস্তা চুক্তি বা সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে নাটকীয় কোনও সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল না, আর তা হয়ওনি। কিন্তু ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে শহীদুল হক সামুদ্রিক বা পারমাণবিক সেক্টরে সহযোগিতার যে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন, সেটাকে বড় সাফল্য বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
সারা পৃথিবীতেই এখন সমুদ্রের বিশাল সম্পদকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার দিকে ঝোঁক। সাগরের নীল জলের নিচে যে বিপুল তেল বা গ্যাসের মতো জ্বালানি আছে, মাছের মতো খাবার আছে কিংবা সামুদ্রিক রুটে বাণিজ্যের যে সম্ভাবনা আছে– অর্থনীতির পরিভাষায় এখন তারই নাম ‘ব্লু ইকোনমি’। কিন্তু ভারত বা বাংলাদেশ কেউই এতদিন সেই নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি, তবে তার পেছনে অবশ্য নানা কারণও ছিল।
২০১৪ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি করে এর সবচেয়ে বড় বাধাটা দূর করে দিয়েছে। সালিশির রায়ে কার হার, কার জিত হয়েছে তার চেয়েও বড় কথা হলো, দুটো দেশই সেই রায় মাথা পেতে নিয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরের ভেতরে কার জলসীমা কতটুকু, পাকাপাকিভাবে নিরসন হয়েছে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা সেই বিরোধের।
কিন্তু সমস্যা হলো- সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ বা সুরক্ষা কীভাবে করা যায়, কীভাবে তা কাজে লাগানো যায়, এই ব্যাপারে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। অথচ প্রতিবেশী ভারতের এই সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ক্যাপাসিটি’ বা সামর্থ্য বিপুল। আর তারা সেই দক্ষতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে রাজি হয়েছে, বাংলা ট্রিবিউনকে বুধবার এ কথাই জানালেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।
মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের আওতায় দুই দেশ বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র সম্পদ নিয়ে নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করবে, এমন কী যৌথভাবে সাগরে সম্পদ আহরণে অনুসন্ধানও (‘জয়েন্ট এক্সপ্লোরেশন’) চালাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর আগামী মাসে ঢাকার বৈঠক থেকেই শুরু হয়ে যাবে বাংলাদেশ-ভারত ব্লু ইকোনমি অভিযান।
এর পাশাপাশি, রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের যে বহুদিনের লক্ষ্য, সেই স্বপ্ন পূরণেও ভারত সব রকম সাহায্য করবে বলে কথা দিয়েছে। তবে এটা ঠিকই যে রাশিয়ার মতো ভারত রূপপুরে পরমাণু রিঅ্যাক্টর (চুল্লি) বসাতে সাহায্য করতে পারবে না কিংবা ফ্রান্স বা অস্ট্রেলিয়ার মতো ইউরেনিয়াম-প্লুটোনিয়াম গোছের জ্বালানিও জোগাতে পারবে না। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে বিপুল প্রশিক্ষিত লোকবল, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদের দরকার হবে, তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত অবশ্যই বাংলাদেশকে সাহায্য করতে পারবে।
সামুদ্রিক ও পারমাণবিক খাতে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে তিস্তার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, ‘আমরা ভীষণ আশাবাদী এবং অপেক্ষা করছি সেই আশা নিয়েই।’
/এজে/আপ-এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম