জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের বিনামূল্যে করোনার চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১–২০২২ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় কিছুটা হাস্যরস করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
নিজের বক্তব্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা ও টিকার ব্যবস্থা করা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলো তা কেউ জানতে চান না। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যর্থ দেখাতে পারলে সরকারকে ব্যর্থ দেখাতে পারবেন, এটা তাদের লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সরকারি দলের সদস্যদের কাউকে কাউকে কিছু বলতে দেখা যায়। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বিরোধী দল অনেক সাহায্য সহযোগিতা করেন। সংসদ সদস্যরা অনুরোধ করছেন, বিরোধী দলের সদস্যদের করোনার আরেকটি ডোজ টিকা দেওয়া হোক। তৃতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিনামূল্যে চতুর্থ ডোজের টিকারও ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ছাটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, সিন্ডিকেট করে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই দুর্নীতির কারণে মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই খাতে সুশাসনের ঘাটতি আছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের ভৌত অবকাঠামোতে মনযোগ বেশি। কারণ রাজস্ব বাজেটে খুব বেশি দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। অবকাঠামোতে দুর্নীতি করা যায় আর ভৌত উন্নয়নও দেখানো যায়।
করোনার টিকার ব্যবস্থা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাতের মিঠু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না।
এই বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, তিনি অনেক দিন ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন। কিন্তু মিঠু নামে কোনও লোককে দেখেননি।
বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, গত ১৩ বছরে বিভিন্ন জেলা উপজেলা হাসপাতালের জন্য হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর ব্যবহার হয়নি। নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করার দাবি জানান। তাকে ওই কমিটির সদস্য করা হলে একমাসের মধ্যে এসব তথ্য বের করতে পারবেন বলে সংসদকে জানান।









