বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং শাস্তি দৃশ্যমান করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অপরাধ কমাতে কাউন্সেলিং করারও সুপারিশ করে কমিটি।
কমিটির সভাপতি টিপু মুনশির সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. শামসুল হক টুকু, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম এবং কামরুন নাহার চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী, সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী হয়রানির বিষয়টি সামনে এনে কমিটিতে আলোচনা হয়। এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই দু’একজনের দায় পুরো পুলিশ বাহিনী নিতে পারে না বলে কমিটিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও পুলিশের কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান। তারা বলেন, অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী অনেক ভালো কাজ করছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে কাজ করছে। তারপরও দুই চার জন সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এদের জন্য তাদের ভালো কাজগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। এজন্য অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি নিশ্চিত ও দৃশ্যমান করার সুপারিশ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর ইমেজ নষ্ট করার একটা প্রচেষ্টা চলছে, এজন্য পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশি সর্তক হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’
কমিটির অপর সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, ‘তল্লাশির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে যেন হয়রানি না করা হয়। এক্ষেত্রে আরো সুষ্ঠুভাবে তল্লাশি করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
বৈঠকে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে এবং চালক নিয়োগে পুলিশের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণের সুপারিশও করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল ২০১৬ নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজনসহ সংসদে উপস্থাপনের জন্য রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়।
ইএইচএস/এজে








