পদ্মা সেতু নির্মাণের মত বড় বড় প্রকল্প গ্রহনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকার অর্জন করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কারণে অন্য কোন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলেও তিনি জানান।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এতথ্য জানান। স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবারের বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে অন্য কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হবে কী না পীর ফজলুর রহমানের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় প্রকল্প গ্রহনের মত অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকার অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যেসব প্রকল্প আমরা গ্রহণ করেছি তার সবগুলোই সুষ্ঠুভাবে প্রক্রিয়াধীন আছে। এর কোনটির কাজ শেষ হয়েছে বা কোনটির কাজ চলছে। কাজেই কোনও ক্ষেত্রেই কোনও প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
এই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সাহসী, স্বাধীনচেতা ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহনের ফলেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ যথাসময়ে শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এ সেতুর নির্মাণ কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে এবং ২০১৮ সাল নাগাদ এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া সম্ভব হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে একই সময়ে গাড়ি ও ট্রেন চলাচল করবে। দোতলা সেতুর নীচ দিয়ে ট্রেন ও উপর দিয়ে চলবে গাড়ি। সড়ক পথে যানবাহন চলাচল শুরুর দিন হতে রেল চলাচলের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেল চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। ফরিদপুর থেকে ভাঙা হয়ে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভাঙা-বরিশাল ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বরিশালবাসীও রেল লাইন দেখতে পাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশ্নোত্তরকালে প্রধানমন্ত্রী সকল সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এগুলো তদারকি করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন,এসব কাজ দেশের জনগণের টাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। পাই পাই করে হিসেব করে দেখবেন,এসব টাকা ঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কী না। তাহলেই দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে।
জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী একজন মানুষের দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধের প্রয়োজন। বর্তমানে একজন মানুষ দৈনিক ১২২ মিলি লিটার দুধ পাচ্ছে।
চিপ হুইপ আ স ম ফিরোজের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দেশের সব মহাসড়কই চার লেনে উন্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক চার লেনে উন্নিত করার কাজ শেষ হয়েছে। এরপর ছয়লেন করা হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কও চার লেন হয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক একেবারে তামাবিল পর্যন্ত চার লেন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দরকার হলে ঢাকা-বরিশাল পথেও চার লেন করা হবে।
/ইএইচএস/এপিএইচ/আপ-এনএস/








