প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদেরকে তাই ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষায় শিক্ষিত করা উচিত। কিন্তু আমাদের শিশুরা যেন ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের যেন কেউ বিভ্রান্ত করতে না পারে।’
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধনের পর এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘মানসম্মত শিক্ষা, জাতির প্রতিজ্ঞা’- প্রতিপাদ্য নিয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ। আগামী ১০ ফেব্রুয়রি পর্যন্ত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ এর এ অনুষ্ঠান চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য যে সোনার ছেলে-মেয়ে দরকার, তাদের গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক। তাই প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে যাতে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে এবং ন্যায়-নীতিবান হয়ে আর্দশ নিয়ে মানুষ হয়, সেই চর্চা করানোর দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে শিক্ষকদের। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। তারা যেন বিভ্রান্তির পথে না যায়। মাদকাসক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যেন জড়িত না হয়।’
নিরক্ষতামুক্ত দেশ গড়ার পদক্ষেপ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন ৯৬ সালে সরকার গঠন করি তখন আমাদের কথাই ছিল নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। সবাই অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হবে, কেউ নিরক্ষর থাকবে না। আমরা জেলা নির্দিষ্ট করে নিরক্ষরমুক্ত জেলা ঘোষণার কাজ শুরু করি। যার ফলে ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো পুরস্কারও দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। বই কিনতে বাবা মায়েদের কষ্ট হতো। এটা তাদের ওপর একটি অতিরিক্ত বোঝা ছিল। তাই আওয়ামী লীগ সরকারই দায়িত্বটা নিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১০ সালে আমরা জাতীয় শিক্ষানীতি করি। এতে ধর্মীয় শিক্ষাও আমরা বাধ্যতামূলক করেছি। এই প্রথম আমরা একটি শিক্ষানীতি করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট করেছি। সেই ট্রাস্ট থেকে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা হয়। স্কুলগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছি। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট করা হয়েছে। যেখানে বিদ্যালয় নেই সেখানে আমরা বিদ্যালয় করে দিয়েছি। তাছাড়া ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর জন্য তাদের ভাষায় পাঠ্যপুস্তকও করা হয়েছে, যেন তারা তাদের ভাষায় পড়তে পারে।’
ধাপে ধাপে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ।
পরে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অসমান্য অবদান, খেলাধুলা, সংগীত, বিদ্যালয় পরিচালনা, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের হাতে পদক তুলে দেন।
/আরএআর/পিএইচসি/এফএস/








