গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। ১৯৭৪ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে দেশ দুটি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়। অপরাধীরা সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং হত্যা,ধর্ষণ,অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত হন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০১৩ সালে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ এবং প্রাদেশিক সংসদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে। সর্বশেষ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির পরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রদান করে। বাংলাদেশ এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের একজন কূটনীতিকের উগ্রপন্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে বাংলাদেশ তাকে প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানায়।ইসলামাবাদ তাকে প্রত্যাহার করলেও তারা বাংলাদেশের একজন কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নিতে বলে। তবে কেন তাকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
সর্বশেষ বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা বাহিনী একজন পাকিস্তানি দূতাবাসের কর্মকর্তাকে তার সন্দেহজনক গতিবিধির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হলেও এর প্রতিশোধ হিসাবে সাদা পোশাকধারী কয়েক ব্যক্তি বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং সাত ঘণ্টা আটকে রাখে।
২০০৯ সালের পরে পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন এমন একাধিক বাংলাদেশি কূটনীতিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র নীতি ঠিক করে দেয় সে দেশের সামরিক বাহিনী।১৯৭১ সালের পরাজয় কখনও তারা সহজভাবে নিতে পারেনি।
পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন এমন একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, ২০০৯ সালের পরে পাকিস্তানের বাংলাদেশবিরোধী আচরণের প্রধান কারণ তাদের সামরিক বাহিনী এবং একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৫ জন পাকিস্তানির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠলেও তালিকায় তাদের নাম ছিল না। কারণ,১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে ঢাকার পক্ষ থেকে দাবি ছিল,এসব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে পাকিস্তান। কিন্তু তারা সেটি করেনি।
তিনি বলেন,‘কান টানলে মাথা আসে’এবং এ জন্য বাংলাদেশের এই বিচার প্রক্রিয়ার কারণে তাদের ১৯৫ জনের বিচার শুরুর পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত তৈরি হলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বিপদে পড়বে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্য এর দু’টি নেতিবাচক দিক রয়েছে। প্রথমত, যে কোনও বিচার প্রক্রিয়া তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে এবং দ্বিতীয়ত, ১৯৭১ সালে তাদের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড যেটি তারা এতদিন পাকিস্তানিদের কাছে লুকিয়ে রেখেছিল তা প্রকাশ হয়ে পড়বে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন,এ কারণে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার ঘোরতর বিরোধী পাকিস্তান। দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পেছনে তাই দেশটির নিজেরই হাত রয়েছে।
/এসএসজেড/এমএসএম/আপ-এআর/








