আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে মোহাম্মদপুরে পুলিশ সদস্যদের হেনস্তা ও হয়রানীর অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা আদাবর থানার এস আই রতন কুমার হালদারের আচরণ ছিলো অপেশাদার। রতন কুমারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিটি এ প্রতিবেদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, তদন্ত প্রতিবেদনের বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভুক্তভোগী ফারহানা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশতো পুলিশের পক্ষেই বলবে- এটাই স্বাভাবিক। রতন কুমার যদি কোনও দোষই না করবেন তাহলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে আপোসের চেষ্টা করছেন কেন? বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলেই এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে।’
ফারহানার অভিযোগ, গত ১ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকায় রিকশা থেকে জোর করে তাকে নামিয়ে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে যান এসআই রতন কুমার হালদার। সেখানে তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা চালিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন তিনি। তার আগের দিন ৩১ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে রতন কুমার তাকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন তিনি।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এসআই রতন কুমারকে প্রথমে প্রত্যাহার ও পরে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে এডিসি হাবিবুন্নবী আনিছুর রশিদ ও এসি হাফিজ আল ফারুককে দিয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার ওই কমিটি ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এ বিষয়ে তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘অভিযোগকারী ওই ছাত্রী এসআই রতনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তা অসমর্থিত। সব মিলিয়ে অভিওযোগকারী ও অভিযুক্তের বক্তব্যে গড়মিল পাওয়া গেছে। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করেও অভিযোগের সত্যতা পায়নি কমিটি।’
ডিসি বিপ্লব আরও বলেন, অভিযোগকারীর স্বামী সজিব আহমেদ রানা ইয়াবা ব্যবসায়ী। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ পেয়েছেন তারা। সজিব আহমেদের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা রয়েছে। সেই মামলায় পুলিশ চার্জশিটও দিয়েছে। সেজন্য হয়তো সংক্ষুব্ধ হয়ে এমন অভিযোগ এনেছেন তিনি। তবে তিনি আরও বলেন, এস আই রতন একজন আসামির স্ত্রীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কথা বলে পেশাদারিত্বের পরিচয় দেননি। এরইমধ্যে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
/জেইউ/এফএস/








