মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সোমবার দুপুরে সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিষয়গুলো সম্পর্কে বর্ণনা করেন। বলেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে জি-টু-জি প্লাস প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তার মতে, সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর হলে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসবে এবং কর্মীদের নিরাপত্তাও বাড়বে।
এ সময় কর্মী পাঠানোর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তারা জানতে চান, মালয়েশিয়া যেতে শ্রমিকের কত টাকা লাগবে? সচিব বলেন, ডোকুমেন্টে দেখতে পাচ্ছি, প্রতিকর্মীর জন্য লাগবে ৩৪ থেকে ৩৭ হাজার টাকা এবং এই টাকা শ্রমিককে দিতে হবে না। এটা দেবে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা। আর বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি বা তাদের সংগঠন বায়রা বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কর্মীদের মেডিক্যাল, প্রশিক্ষণ ও বহির্গমনে সহায়তা দেবে।
সাংবাদিকরা জানতে চান, বায়রা বা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো এই সহায়তা বাবদ কর্মীদের কাছ থেকে কত টাকা নিতে পারবে? এ বিষয়ে কোনও নীতিমালা আছে কিনা? সচিব তখন বলেন, আমার কাছে এর উত্তর নেই। কারণ আমার কাছে যে সারসংক্ষেপ আছে তাতে এ সম্পর্কে কিছু বলা নেই।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে সচিব জানান, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হবে এক মাসের মধ্যে। এরপর তিন মাসের মধ্যে তা কার্যকর হবে। তখন থেকে প্রতিবছর পাঁচ লাখ করে তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারবে। সেবা, ম্যানুফেকচারিং ও কন্সট্রাক্টশন- এই তিন ক্যাটাগরিতে মালয়েশিয়া কর্মী নেবে। আগের চুক্তি অনুযায়ী কেবল প্ল্যানটেশন ক্যাটাগরিতে মালয়েশিয়ায় কর্মীরা যেতে পারতো। এবার যারা যাবে তাদের বেতন হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। কোনও অভিযোগ উত্থাপিত হলে দুই দেশের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গঠিত ‘জয়েন্ট গ্রুপ’ তা মীমাংসা বা সমাধান করবে।
জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে এর আগেও ২০১২ ও ২০১৪ সালে দু’বার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৬ সালে এ ধরনের উদ্যোগ ছিল। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ভালো হলেও তা পণ্ড করে দেয় কতিপয় রিক্রুটিং এজেন্সি। সরকারি উদ্যোগ শুরু হওয়ার আগেই তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে দালাল লাগিয়ে কর্মী সংগ্রহ করে। এসব কর্মীর কাছ থেকে আদায় করা হয় লাখ লাখ টাকা। সরকার এর লাগাম টেনে ধরতে না পারায় এক সময় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে অনেক পরিবার।
কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকার যদি কঠোর না হয় এবং দ্রুত নীতিমালা তৈরি না করে তাহলে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে এবারও কেলেঙ্কারি হয়ে যেতে পারে।
/ এএইচ /








