তন্দ্রা ও তাহা দুই বোন। বাবা-মায়ের সঙ্গে পল্টন এলাকা থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে এসেছে তারা। উপলক্ষ সাফজয়ী সাবিনাদের অভিনন্দন জানানো। সেই কাক্ষিত মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষায় রয়েছে তারা।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে আরামবাগে আসে চার সদস্যের পরিবারটি। পরিবারের কর্তা হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, টেলিভিশনে নারী ফুটবল দলের সাফ শিরোপা জয়ের খবর দেখে নিজের চোখে তাদের দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে মেয়েরা। ওদের মাও এতে কোনও আপত্তি করেননি। ফলে তাদের সবাইকে নিয়ে চলে আসলাম বাফুফে ভবনে।
প্রথমে গেট দিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় বাইরেই অবস্থান করতে হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, গেটম্যানদের বুঝিয়ে ভেতরে এসেছি। এখন তন্দ্রা ও তাহা কেবল জানতে চাইছে খেলোয়াড়রা কখন আসবে? তারা রীতিমতো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এতে আমাদের বরং ভালোই লাগছে।
তন্দ্রা ও তাহা ছোট ছোট পতাকা নিয়ে বাফুফেতে এসেছে। পতাকা কিনে দিয়েছেন তাদের বাবা। যাত্রাবাড়ী পিডিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তন্দ্রা বলছিল, আমি ফুটবল খেলা খুব ভালোবাসি। সেজন্য আমাদের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাতে এসেছি আমরা। আমার সঙ্গে পুরো পরিবার এসেছে।
তাহা এখনও স্কুলের চৌকাঠে পা না দিলেও কথা বলতে পারে স্বতস্ফুর্তভাবে। সে বলে, আমি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে এসেছি। আমি তো ফুল দিতে পারবো না, ছোট মানুষ। বাবার কোলে বসে তাদের দেখবো। তারা কার্টুনের মতো খুব ভলো খেলেছে।
বাফুফেতে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও এখনও এসে পৌঁছায়নি সাফ ট্রফি নিয়ে চ্যাম্পিয়ানদের ছাদখোলা বাস। এদিন বাংলার মেয়েরা দেশে ফেরেন বুধবার ১টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তাদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করে নেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও বাফুফে কর্মকর্তারা। এ সময় সাফজয়ীদের কেক কেটে খাওয়ান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি ফুল দিয়ে বরণও করে নেওয়া হয়।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ও সানজিদা আক্তার। তারপর সাফজয়ীদের নিয়ে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে ছাদখোলা বাসের শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এ সময় তাদের ঘিরে রাখেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। রাস্তার দুই পাশে সাফজয়ীদের দেখে জনগণ হাত নেড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন। সাবিনারাও হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখান। খোলা ছাদের বাসে সামনে ট্রফি হাতে রয়েছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তার পাশে সানজিদা, মাশুরা পারভীনরা রয়েছেন।
চ্যাম্পিয়নদের বাসটি বিমানবন্দর থেকে কাকলী-বনানী পার হয়ে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে যাবে। তারপর বিজয় সরণি, তেজগাঁও হয়ে পুনরায় ফ্লাইওভার দিয়ে মৌচাক হয়ে কাকরাইলে আসবে। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল-আরামবাগ। তারপর মতিঝিল শাপলা চত্বর ঘুরে পৌঁছাবে বাফুফে ভবনে। সেখানে বাফুফে সভাপতি ও সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তাদের সংবর্ধনা দেবেন।









