সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিকদের উন্নতমানের সাময়িক আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য চট্টগ্রাম জেলার সল্টগোলা এলাকায় নির্মিত হবে সীম্যান্স হোস্টেল কমপ্লেক্স। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিকদের উন্নতমানের সাময়িক আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সীম্যান্স হোস্টেল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন মেয়াদে প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়িত হবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানিয়েছে, মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে আগত বিদেশি নাবিকদের সাময়িক আবাসন ও বিনোদন সুবিধা দিতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু আবাসন সুবিধাই নয়, দেশি-বিদেশি নাবিকদের চিত্ত বিনোদন, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, সাইবার ক্যাফে, জিমনেশিয়াম, এমিউজমেন্ট কর্নার ও অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ-১৯৮৩ এর ১২ ধারার বিধান বাস্তবায়ন, সরকার কর্তৃক অনুসমর্থিত মেরিটাইম লেবার কনভেনশনের রেগুলেশন অনুযায়ী নাবিকদের কল্যাণ সুবিধা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা’র সুপারিশ বাস্তবায়ন সহজতর করা, আন্তর্জাতিক নৌ অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করা, নাবিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নততর করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, সীম্যান্স হোস্টেল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলার সল্টগোলা এলাকায় প্রকল্পের আওতায় ১২ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৮ বর্গমিটার আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এর জন্য এক হাজার ঘনমিটার ভূমি বা সাইট উন্নয়ন করা হবে। বিদ্যুতায়ন, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সরঞ্জার কেনা হবে। একটি জিমনেশিয়াম হবে এবং খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা হবে।
অপরদিকে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধ্যায় ৩ এর ৩.৪ এবং ৩.৫.১ অনুচ্ছেদে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া, আলোচ্য প্রকল্পটি এসডিজি’র অষ্টম লক্ষ্যমাত্রা- সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজি’র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
একনেকে অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী নাবিক ও নৌ কর্মকর্তাদের জন্য সাময়িক আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক নৌ অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। তাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদফতরের অধীনে সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত সীম্যান্স হোস্টেল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি ৫৯ কোটি ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একনেক-এ অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, বিদেশি জাহাজের নাবিকরা যারা বাংলাদেশের বন্দরে আসেন তাদের আবাসনের সুবিধা ছিল না। তারা বেসরকারি হোটেলে অবস্থান করতেন। যা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণও বটে। বিষয়টি অনুধবান করে সরকার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জল করবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
আরও পড়ুন- ৭ হাজার কোটি টাকার ৬ প্রকল্প অনুমোদন








