আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে নৃশংসভাবে নিজ বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের চার বছর পার হলেও তদন্ত এক জায়গায় থমকে আছে। কোনও অগ্রগতি নেই। তবে এখনও আশাবাদী তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।এদিকে, তদন্তে কোনও অগ্রগতি না থাকায় নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। এরকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনও দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্ধকারে থাকায় তাদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতের কোনও এক সময় পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভাড়া বাসায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের চার বছর পার হলেও এই মামলার তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ‘সবোর্চ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হলেও খুনিরা এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বলা যায়, অনেকটা অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘পুরো তদন্ত কার্যক্রমেই আমরা হতাশ। চার বছরেও ঘটনার কোনও কুলকিনারা হলো না। আদৌ হবে কিনা তাও কারও জানা নেই।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় মোট ১৪৬ টি শুনানি হয়েছে ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে। গত চার বছরে আদালত ৩৯ টি তারিখ ধার্য করেছিলো প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোনও তারিখেই তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিতে পারেনি।
সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি চার্জশিট দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে র্যাব। তাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এমএম ইউনুস খানের আদালত আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দিন ধার্য করেন।
বর্তমানে র্যাব সদর দফতরের তদন্ত বিভাগের উপ-পরিচালক ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মহিউদ্দিন আহমেদ এ মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা।
র্যাব এ পযর্ন্ত ৭ টি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয় আদালতে। তবে কোনও প্রতিবেদনে ঘটনার রহস্য উৎঘাটনের তথ্য নেই।
‘এই হত্যাকাণ্ডে ৮ জনকে আটক করা হয়।তারা হলেন-রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান,বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী হুমায়ুন কবির, ডা. নিতাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। এদের মধ্যে তানভীর এবং পলাশ জামিনে মুক্ত আছেন।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও হাত-পা বাঁধার রশিসহ বিভিন্ন আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ২১ জন এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনাও পাঠায় র্যাব। সেই পরীক্ষার রিপোর্টও পেয়েছে তারা। তারপরও কোনও আসামিকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি তদন্তকারী এ প্রতিষ্ঠানটি।তদন্তের স্বার্থে পরীক্ষার বিষয়ে মুখ খোলেনি র্যাব। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগর-রুনির স্বজনরা।
সাগর সরোয়ারের মা সালেহা মনির অভিযোগ করেন, ‘এসব বলে কোনও লাভ নেই। বিচার পাব না। উপরের চাপ থাকলে বিচার পাওয়া যায় না। র্যাব পারে না এমন কিছু নেই। তারা চাইলে আসামিদের আটক করতে পারে। কিন্তু তারা করবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছে। যাদের কাছে সবাই নত। তাই এর কোনও কুলকিনার হচ্ছে না।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। তাদের সবকিছু জানানো হচ্ছে।’
/এআরআর/টিএইচ/এনএস/এমএসএম/








